অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩:১৮, ৪ অক্টোবর ২০২৬
জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থাটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) নতুন এই তথ্য প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের মানুষের গড় আয়ু, সুস্থ গড় আয়ু, মৃত্যুর প্রধান কারণ এবং রোগের বোঝাসহ জনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন সূচক তুলে ধরা হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৭ বছর। একই সময়ে ভারতের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর। আর পাকিস্তানের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৬৮ দশমিক ২ বছর। অর্থাৎ প্রতিবেশী দুই দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু কিছুটা বেশি।
তবে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে কয়েকটি দেশের মানুষের গড় আয়ু বাংলাদেশের তুলনায় আরও বেশি। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭৮ দশমিক ৫ বছর। অন্যদিকে কানাডার মানুষের গড় আয়ু ছিল ৮১ দশমিক ৪ বছর।
তবে দীর্ঘ জীবন পাওয়া আর সেই দীর্ঘ সময় সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এক বিষয় নয়। গড় আয়ু বাড়লেও একজন মানুষ জীবনের কত বছর রোগমুক্ত ও সুস্থভাবে কাটাতে পারছেন, সেটিও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে মানুষের সুস্থ গড় আয়ু ছিল ৬০ দশমিক ৬ বছর। ২০১৯ সালে দেশটির সুস্থ গড় আয়ু ছিল ৬০ দশমিক ৫ বছর। তবে করোনা মহামারির সময় ২০২১ সালে এই সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৫৮ দশমিক ৪ বছরে নেমে আসে।
পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ভারতের সুস্থ গড় আয়ুও বাড়তে শুরু করে। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬০ দশমিক ২ বছরে পৌঁছায় এবং ২০২৩ সালে আরও কিছুটা বেড়ে ৬০ দশমিক ৬ বছরে দাঁড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাটা ডিপার্টমেন্টের প্রধান অ্যালাইন ল্যাবরিক এ প্রসঙ্গে বলেন, জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়া একটি বড় অর্জন। তবে এর পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মানুষ যেন শুধু বেশি দিন বেঁচে না থাকে, বরং সুস্থ শরীর নিয়ে দীর্ঘ সময় জীবনযাপন করতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে তাই গড় আয়ুর পাশাপাশি সুস্থ গড় আয়ুও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। মানুষের আয়ু বাড়ানোর পাশাপাশি রোগ ও অক্ষমতার সময় কমিয়ে সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ বাড়ানোই এখন জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় লক্ষ্য।