ডেঙ্গু প্রতিরোধে গবেষণাভিত্তিক সমাধানের তাগিদ বিজ্ঞানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯:৫৭, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে গবেষণাভিত্তিক সমাধানের তাগিদ বিজ্ঞানমন্ত্রীর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় ডেঙ্গু সমস্যা মোকাবেলায় কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা বা সভা-সেমিনারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে  গবেষণার মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবসম্মত ও কার্যকরী সমাধান উদ্ভাবনে  পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর তাগিদ দিয়েছেন।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় ডেঙ্গু একটি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার মতো জনবহুল শহরে এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। তাই এ বিষয়ে দীর্ঘসূত্রিতা না করে আমাদের অবিলম্বে মাঠে নেমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মন্ত্রী আজ (রবিবার)  বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে Wolbachia-ভিত্তিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধানের প্রস্তাব সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথি'র বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারপ্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে বাস্তবভিত্তিক পাইলট প্রজেক্ট বা প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুধুমাত্র সভা-সেমিনার বা পডকাস্টে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করার আহ্বান জানান।

​বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদানে তিনি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যে কারো সাথে কথা বলে ডেঙ্গু দমনে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন তাঁরা যাতে শুধু গবেষণাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকরী উপায়ে এই জনস্বাস্থ্য সংকটের দ্রুত সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসেন।


 সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন তাঁর  বক্তব্যে ডেঙ্গু ও মশা দমনে গবেষণার ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা এবং সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একক প্রচেষ্টার চেয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। বিজ্ঞান ও গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞান সচিব আরও বলেন, সঠিক পথ এবং সবচেয়ে কার্যকর অপশন খুঁজে বের করতে যৌথ উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই, যা সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক দিক থেকেও কার্যকর হতে হবে। এছাড়া যেকোনো প্রকল্প বা কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে তা যেন দেশের আবহাওয়া, ভৌগোলিক অবস্থান এবং সামাজিক কল্যাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।  

সভায় জানানো হয় ডেঙ্গু ও মশা নিধনে কার্যকর গবেষণার নিমিত্তে টেমাসিক ফাউন্ডেশন এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর অনুদানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইলট প্রকল্প খুব দ্রুতই কাজ শুরু করবে। এছাড়া এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মরত দেশীয় গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হবে। এর ফলে দেশের নিজস্ব প্রযুক্তি, জ্ঞান এবং উদ্ভাবনগুলোকে এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত করে আরও বেশি ফলপ্রসূ করা সম্ভব হবে বলে সভায়  আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (Chargé d'affaires)  ফিলিপ অং (Philip Ong) বক্তব্য রাখেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজি, জেনেটিক্স এন্ড ইম্মিওনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. Zhiyong Xi। সভায় ডেভিড কুয়েক ইয়ং কি (সিইও), সিমবায়োসিয়া এসইএ (SymbioCI SEA) তাঁর টীমসহ সভায় অংশগ্রহণ করেন। এই প্রযুক্তি চালুর বিষয়ে স্থানীয় অংশীজন যেমন- ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আইইডিসিআর এর প্রতিনিধি ও গবেষকগণ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড.এম মঈনুল ইসলাম, , বিসিএসআইআরএর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ, প্রফেসর ড. এম. ফিরোজ জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রফেসর ড. কবিরুল বাশার,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন