মোঃআহছান উল্লাহ, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৭:১৪, ৫ নভেম্বর ২০২৬
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা পুলিশের একাধিক টিম একযোগে এই ঝটিকা অভিযান চালায়। কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রধান ও পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএমের সরাসরি নির্দেশনা ও সুনির্দিষ্ট ছকে জেলার প্রতিটি উপজেলা ও অপরাধপ্রবণ পয়েন্টে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,বুধবার রাতের অভিযানে আটক হওয়া ২৯৯ জনের মধ্যে ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।অন্যদিকে অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবে না—এমন কঠোর শর্তে ১৪০ জনকে মুচলেকা নিয়ে তাদের নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের সরবরাহ করা অভ্যন্তরীণ গোপন তথ্য অনুযায়ী,কুমিল্লাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত করার এই বিশেষ মহাপরিকল্পনা শুরু হয়েছিল গত ২৩ সেপ্টেম্বর।২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান এই ৪২ দিনের টানা অভিযানে জেলা জুড়ে রেকর্ডসংখ্যক মোট ৬ হাজার ৮৫৭ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
ব্যাপকভিত্তিক এই ধড়পাকড়ের পর সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও পূর্বের মামলার ভিত্তিতে ২ হাজার ৮৯৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ বিভিন্ন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।অপরদিকে, অপরাধের প্রাথমিক স্তরে থাকা কিংবা অপরাধীদের সাথে ঘোরাফেরা করা ৩ হাজার ৯৬৪ জন উঠতি বয়সী তরুণকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে মুচলেকায় বাবা-মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,মূলত উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অন্ধকার অপরাধ জগতে পা না বাড়ায় এবং একই সাথে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার মাদক সিন্ডিকেট ও ছিনতাইকারীদের উপদ্রব যেন সম্পূর্ণ নির্মূল করা যায়,সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোঃআনিসুজ্জামান, পিপিএম জানিয়েছেন, কিশোর অপরাধের শেকড় উপড়ে ফেলা, মাদকের বিস্তার রোধ এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও সাঁড়াশি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন,কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।তবে অভিযান চলাকালে কোনো সাধারণ বা নির্দোষ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশের সর্বোচ্চ সতর্কতা রয়েছে।