আসন সমঝোতায় জট, ক্ষুব্ধ বিএনপির মিত্ররা

প্রকাশ: ১৭:১৮, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

আসন সমঝোতায় জট, ক্ষুব্ধ বিএনপির মিত্ররা

২৩৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেও এখনো মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি। এতে শরিক দলের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যেসব আসনে মিত্রদের আগ্রহ রয়েছে, সেখানে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যে মাঠে নেমে প্রচারণা শুরু করেছেন। এতে জোটের সমন্বয় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শরিকদের দাবিদাওয়া পর্যালোচনায় কিছুটা সময় লাগছে। তবে শরিক দলের নেতারা মনে করছেন, বিলম্ব হলে বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে নেমে পড়তে পারেন, যা জোটের ঐক্যকে দুর্বল করবে।

৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে (এর মধ্যে মাদারীপুর-১ স্থগিত) সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর বিএনপির প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন। এতে নির্বাচনি উত্তাপ বাড়লেও জোটের শরিকরা বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে বুধবার থেকে মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু করেছে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি।

প্রথম দিন রাতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। এই বৈঠকে শরিকরা দ্রুত আসন ঘোষণা এবং বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের স্বতন্ত্রভাবে না দাঁড়ানোর নিশ্চয়তা চাইবে বলে জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “শরিকদের আসন নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ৬৩টি আসন ফাঁকা রেখেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০টি আসন শরিক রাজনৈতিক দলগুলোকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। তবে শরিকদের ভূমিকা, জনপ্রিয়তা এবং বিগত আন্দোলনে অংশগ্রহণের ভিত্তিতে আসন বণ্টন চূড়ান্ত করা হবে।

দলের একাধিক নীতিনির্ধারক সূত্র জানায়, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য প্রাথমিকভাবে ২২টি আসন বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চকে পাঁচটি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে পাঁচটি, ১২ দলীয় জোটকে তিনটি, গণঅধিকার পরিষদকে দুটি, এলডিপিকে দুটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিকে একটি এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোকে একটি করে আসন দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

তবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে সমঝোতা এখনো হয়নি। দলটি বিএনপির কাছে ১২টি আসন চেয়ে তালিকা দিয়েছে, কিন্তু বিএনপি সর্বোচ্চ পাঁচটি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে। জমিয়তের চাওয়া তালিকায় রয়েছেন— আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক (সিলেট-৫), মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (নীলফামারী-১), মোহাম্মদ আলী (সিলেট-৪), জুনায়েদ আল হাবিব (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), মনির হোসেন কাসেমী (নারায়ণগঞ্জ-৪), মোখলেছুর রহমান চৌধুরী (কিশোরগঞ্জ-১), শোয়ায়েব আহমদ (সুনামগঞ্জ-২) ও তালহা ইসলাম (নড়াইল-২)।

জমিয়তের আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, “আলোচনা এখনো চলমান। আমরা বেশ কয়েকটি আসন চেয়েছি, তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমাদের চাহিদামতো আসন না পেলে জোট না করতেও পারি।”

এদিকে, শরিক দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির প্রার্থীরা তাদের আগ্রহের আসনে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। শরিকদের মতে, যদি পরে তাদের নিজস্ব প্রতীকে লড়তে হয়, তবে ভোটারদের কাছে প্রতীকের পরিচিতি তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়বে।

১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, “৬৩ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দেয়নি। যত দ্রুত সম্ভব শরিকদের আসন ঘোষণা করা দরকার।”

গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “বিএনপি এখনো আমাদের কাউকে বলেনি যে, আমরা নমিনেশন পাবো। তারা কাকে কোথায় ভাবছে, সেটা জানালে আমরা আলোচনা করতে পারতাম।”

বিএনপির সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা নেতারা বলছেন, খুব শিগগিরই মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত হবে। তবে আপাতত শরিকদের চাপ এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব— উভয়ই জোটের নির্বাচনি প্রস্তুতিকে ধীর করে দিচ্ছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন