তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিনই আলোচনায় জামায়াত-এনসিপি জোট!

প্রকাশ: ১৫:২৮, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের দিনই আলোচনায় জামায়াত-এনসিপি জোট!

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মনোনয়নপত্র জমার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে আসন বণ্টন নিয়ে তীব্র দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দলের মধ্যে চলছে সমঝোতা ও দর-কষাকষি।

এরই মধ্যে জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে যাচ্ছে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়েছে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিএনপি তার শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা শেষ করার পর জামায়াতে ইসলামী এনসিপির সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাশিত আসন না পাওয়া কয়েকটি দল এবং ক্ষুব্ধ নেতারাও সরাসরি জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন নতুন রাজনৈতিক মিত্রতা গড়ার লক্ষ্যে।

তবে এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় জামায়াতের সম্ভাব্য আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১০০টি আসনের দাবি জানালেও জামায়াত এতে সাড়া দিচ্ছে না। একইভাবে মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অন্তত ২৫টি আসনের দাবি করে অনড় অবস্থানে রয়েছে। কয়েকটি দল স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রত্যাশিত আসন না পেলে তারা সমঝোতা থেকে সরে যাবে।

জামায়াত সূত্র জানায়, আসন বণ্টন তিন দফা জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হচ্ছে। দলটির নেতারা বলছেন, যেসব আসনে নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব আসনের জন্য প্রার্থী সংখ্যা কমানোর চিন্তা নেই। প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জামায়াতের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দলটি দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এনসিপি, এবি পার্টি ও অন্যান্য মিত্রদের জন্য প্রায় ৮০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বাসায় যান। আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থতা দেখতে যাওয়ার কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে আসন সমঝোতার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ডা. আবদুল্লাহ তাহের বলেন, ‘আমাদের মধ্যে সৌজন্যমূলক কথাবার্তা হয়েছে।’ নাহিদ ইসলামের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও এনসিপির নির্বাহী পরিষদের সূত্র জানায়, দলের অধিকাংশ সদস্য জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার পক্ষে মত দিয়েছেন।

এদিকে সম্ভাব্য জোট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, ‘তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে। এনসিপি অবশেষে জামায়াতের সঙ্গে সরাসরি জোট বাঁধছে।’

তিনি আরও লেখেন, সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। আলোচনায় জানা গেছে, এনসিপি শুরুতে জামায়াতের কাছে ৫০টি আসন দাবি করলেও চূড়ান্তভাবে ৩০টি আসনে সমঝোতা হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী বাকি ২৭০ আসনে এনসিপি কোনো প্রার্থী দেবে না এবং জামায়াতকে সমর্থন করবে। পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে জামায়াত এনসিপিকে আসনপ্রতি প্রায় ১.৫ কোটি টাকা দেবে বলেও আলোচনা রয়েছে।

সমঝোতার আওতায় ৩০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন জামায়াতের পক্ষে ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের এবং এনসিপির পক্ষে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী—এই দুই নেতা।

এ ছাড়া নাহিদ ইসলাম ও ছোটন গং-এর মধ্যে আরও একটি সমঝোতার কথাও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক মহল প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতকে দেখতে আগ্রহী নয়। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনে জয়ী হলে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলে থাকলে বিরোধী দলীয় নেতা হবেন—এমন একটি কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তবে সম্ভাব্য এই জোটকে ঘিরে তরুণ রাজনীতিক ও আন্দোলনকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানা গেছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন