প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধসহ ১০দফা দাবিতে বিপ্লবী কমিউনিটির কর্মসূচি

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:১৭, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৮, ১১ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধসহ ১০দফা দাবিতে বিপ্লবী কমিউনিটির কর্মসূচি

বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, ইমিগ্রেশন সেবার উন্নয়ন ও প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে রেমিট্যান্স শাটডাউনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে বিপ্লবী কমিউনিটি। একই সঙ্গে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

বিপ্লবী কমিউনিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি প্রবাসীরা। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বিমানবন্দরে হয়রানি, নিরাপত্তার ঘাটতি, ইমিগ্রেশন ভোগান্তি ও বিভিন্ন ধরনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংগঠনটির দাবি, প্রবাসীদের সঙ্গে এমন আচরণ বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রবাসীদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত না করে তাঁদের পাঠানো অর্থকে শুধু রাষ্ট্রের সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করার মানসিকতারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিপ্লবী কমিউনিটি।

বিপ্লবী কমিউনিটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রবাসীদের অবমাননা ও বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হয়রানির প্রতিবাদে ঘোষিত রেমিট্যান্স শাটডাউন কর্মসূচির প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট। প্রবাসীদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ দাবিতে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

বিপ্লবী কমিউনিটির ঘোষিত ১০ দফা দাবি

১. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

২. আক্তারুজ্জামানের মুক্তি: আক্তারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

৩. বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ: প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ করে দ্রুত ও সুষ্ঠু ইমিগ্রেশন সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সরকারি সেবা সহজীকরণ: পাসপোর্ট, ভিসা ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ (এনআইডি) সরকারি সেবাগুলো সহজ ও দ্রুত করতে হবে।

৫. আইনি সহায়তা: বিদেশে বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের জন্য দ্রুত ও কার্যকর আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. স্বাস্থ্যসেবা: প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা চালু করতে হবে।

৭. ঋণ ও বিনিয়োগের সুযোগ: প্রবাসীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে।

৮. মরদেহ দেশে আনা ও আর্থিক সহায়তা: বিদেশে মৃত্যুবরণকারী প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনা এবং তাঁদের পরিবারকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

৯. ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন: প্রবাসীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা কার্যকর হেল্পলাইন চালু করে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

১০. অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: বিমানবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিপ্লবী কমিউনিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান, সেবার মানোন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন