থানায় ঢুকে ওসিকে ‘চোর‘ বলে শাসালেন রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:৪৫, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

থানায় ঢুকে ওসিকে ‘চোর‘ বলে শাসালেন রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে থানার ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে তাঁর নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকদের দাবি, কয়েক দিন ধরে ওসির সঙ্গে সংসদ সদস্যের যোগাযোগের সমস্যা চলছিল। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাননি। দুর্গাপূজার সময় সরাইলে নিরাপত্তা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর। এসব বিষয়ে কথা বলতে নেতা-কর্মীদের নিয়ে থানায় যান রুমিন ফারহানা।

ওসির কক্ষে দুই পক্ষের উত্তপ্ত কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ফোন না ধরা, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা এবং ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তর্ক করতে দেখা যায় তাঁদের। একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসির বিরুদ্ধে ইটভাটা, মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। পরে ওসি পুলিশ সুপারকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং থানায় মব সৃষ্টির অভিযোগ করেন।

ঘটনার বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তিনি থানায় গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, দুর্গাপূজার সময় আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরে পুলিশ নিরাপত্তা দিলেও সরাইলে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। পিএস ১২ বার ফোন করেও ওসিকে পাননি। এ পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন থেকে ১০ হাজার লোকজন নিয়েই চলবেন।

অন্যদিকে, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া দাবি করেন, রুমিন ফারহানা শত শত নেতা-কর্মী নিয়ে থানায় এসে হইচই করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। পূজাকেন্দ্রিক সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চাওয়া আলাদা বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন ওসি। তবে রুমিন ফারহানার আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন