তেঁতুলিয়ায় মোবাইল কোর্টে ৫০ হাজার টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

মোঃ রাকিব হাসান, পঞ্চগড়

প্রকাশ: ১৯:৩২, ৬ আগস্ট ২০২৬

তেঁতুলিয়ায় মোবাইল কোর্টে ৫০ হাজার টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) দিনব্যাপী উপজেলার ভজনপুর বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। মোবাইল কোর্টে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উপজেলা মৎস্য দপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বাজার ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষে ভজনপুর ডিগ্রি কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জব্দকৃত কারেন্ট জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী, জেলে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং পথচারীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে কারেন্ট জালের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কারেন্ট জাল অত্যন্ত সূক্ষ্ম ফাঁসযুক্ত হওয়ায় এতে শুধু বড় মাছ নয়, ছোট মাছ, মাছের পোনা, ডিম এবং বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণী নির্বিচারে আটকা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয় এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পায়। 
দীর্ঘমেয়াদে এটি নদী, খাল-বিল ও অন্যান্য জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করে এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তারা আরও জানান, মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন অনুযায়ী কারেন্ট জালের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয়, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব), পঞ্চগড় সদর বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা বছরই অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা, দেশীয় মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ জলজ পরিবেশ গড়ে তুলতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

তিনি জেলে ও মৎস্যজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দায়িত্বও সবার। তাই সবাইকে আইন মেনে বৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ আহরণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কেউ অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার, বিক্রয় বা মজুদের তথ্য পেলে উপজেলা প্রশাসন বা মৎস্য দপ্তরকে জানিয়ে সহযোগিতা করারও অনুরোধ করেন।

উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যাতে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন