শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ১১:৫৪, ৭ আগস্ট ২০২৬
নিহত ইকবাল হোসেন শিবচর উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোতালেব মাতবরের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে সাগর নামে এক দালালের সঙ্গে ২২ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়। ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ইকবালকে প্রথমে নেপালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৭ দিন রাখার পর তাকে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। স্বজনদের অভিযোগ, শুরুতে ১৭ লাখ টাকার কথা বলা হলেও পরে নানা অজুহাতে পুরো ২২ লাখ টাকা আদায় করে নেয় দালাল চক্র।
প্রায় পাঁচ মাস পর ইকবালকে ইতালিতে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তিনি পুলিশের হাতে আটক হন বলে পরিবার জানায়। পরে একটি সশস্ত্র চক্র তাকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। স্বজনরা বিভিন্নভাবে ১৪ লাখ টাকা জোগাড় করে পাঠানোর পর তাকে ছাড়িয়ে আনতে সক্ষম হন।
এরপর আবার ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে দালাল সাগর আরও ৬ লাখ টাকা নেয়। কিন্তু ইতালিতে পাঠানোর পরিবর্তে ইকবালকে আবারও একটি সশস্ত্র চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে ওই চক্র আরও ২৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়।
পরিবারের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় ইকবালকে হত্যা করা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশি ফোনে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বলেও জানিয়েছেন স্বজনরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইকবালের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার মরদেহ কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইকবালের পরিবার এ ঘটনায় জড়িত দালাল চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইউরোপগামী মানবপাচার বন্ধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইকবাল ছিলেন শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী একজন তরুণ। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।