তানভীর চৌধুরী (মৌলভীবাজার)
প্রকাশ: ২০:২৯, ১১ আগস্ট ২০২৬
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির আওতায় পতনউষার-তারাপাশা সড়কের এয়ারপোর্ট টু তারাপাশা অংশের মেরামত কাজের জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান ‘সাইফুল এন্টারপ্রাইজ’-এর ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম।
নথিপত্র অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত মার্চ মাসে কাজ শুরু করে এবং জুলাই মাসে কাজ সম্পন্ন করে বলে দাবি করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর প্রাথমিক পর্যায় থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের ছাপ ছিল। সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তারা যথাযথ নজরদারি করেননি।
এলাকাবাসী জানান, ঠিকাদার তড়িঘড়ি করে অত্যন্ত নিম্নমানের বিটুমিন, পাথর ও ইটের খোয়া ব্যবহার করে কাজ শেষ করেন। ফলে কাজ সমাপ্তির এক মাসের মধ্যেই হালকা বৃষ্টিতেই সড়কের কার্পেটিং ধসে পড়তে থাকে।
বর্তমানে সড়কটির পালপুর অংশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল ও শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত।
পতনঊষার বাজার ব্যাবসায়ী সাজিদুর রহমান সাচ্চু জানান, কাজটি নিম্নমানের হওয়ায় কয়েকদিনের মধ্যে কার্পেটিং উঠে গেছে। এতে করে সড়কটি সংস্কারের পরেও আগের মতো। যানবাহন চলাচল ও মানুষ যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আহমেদ জানান, ঠিকাদার এতো নিম্নমানের কাজ করেছেন যে কাজ শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় উঠে গেছে। আমরা কাজের মান নিয়ে বারবার অভিযোগ করার পরেও কেউ আমাদের কথা শুনেনি। এখন সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।
পতনঊষারের পার্শ্ববর্তী কামারচাক ইউনিয়নের ৯নং ওয়াডের ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান জানান, কাজে অনিয়মের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে টেকসই মেরামতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইফুল এন্টারপ্রাইজ এর কন্টাক্টর সুয়েলের সাথে মঠোফনে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকা সাংবাদিক যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে প্রথমে তিনি রিবেল এন্টারপ্রাইজ বলে অসিকার করেন পরবর্তীতে একাধিক ফন দিলে তিনি আর ফন রিসিব করেন নি।
পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি আহমদ খান বলেন, রাস্তার কাজের বিষয় নিয়ে আমি উপজেলা মাসিক সভায় কথা বলেছি। একইসাথে অনুরোধ করেছি, রাস্তার কার্পেটিং এর কাজে পূর্ণ মেরামত না করে দেওয়া পর্যন্ত, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ না করার জন্য।
কমলগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল আজম বলেন, নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করে কাজ করা হয়নি। কাজটা যেহেতু করা হয় ম্যানুয়ালি তাই বিটুমিন যদি একটু ওভারহিট হয়ে যায় তাহলে ভিটুমিনের আটা গলে যায় তখন বৃষ্টির পানি যখন রাস্তার উপর জমে থাকে খুব সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চান্স থাকে। তিনি আরও বলেন, কাজ শেষ হয়ে গেছে এর মানে পার পেয়ে গেছেন তানা এক বছরের সিকিউরিটি পিরিয়ড থাকে যেখানে যেখানে খত হয়েছে পূর্ণ মেরামতের জন্য আমরা তাকে বলে দিয়েছি।