শ্রাবণের ভরা মৌসুমেও মুন্সীগঞ্জে পানির সংকট, বিপাকে কৃষক-জেলে

আরাফাত ভূঁইয়া শান্ত, মুন্সীগঞ্জ

প্রকাশ: ১২:১৯, ১৩ আগস্ট ২০২৬

শ্রাবণের ভরা মৌসুমেও মুন্সীগঞ্জে পানির সংকট, বিপাকে কৃষক-জেলে

বর্ষাকালের মাঝামাঝি সময় চলছে। শ্রাবণ মাসের ভরা মৌসুমেও মুন্সীগঞ্জের ছয় উপজেলার ৫০টিরও বেশি গ্রামে প্রত্যাশিত পরিমাণ পানি না থাকায় কৃষি ও মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পানির অভাবে কোথাও পাটচাষিদের দূরের খাল বা নদীতে গিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে, আবার কোথাও ব্যাহত হচ্ছে আমন ধানের আবাদ। একই সঙ্গে খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি কম থাকায় আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সিরাজদিখান ,শ্রীনগর , ও টঙ্গীবাড়ী  ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ভরা বর্ষাতেও অনেক ফসলি জমিতে পর্যাপ্ত পানি নেই। অনেক জমি এখনো আমন চাষের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। কোথাও পানিশূন্য জমিতে গরু-ছাগল চরাতে দেখা গেছে কৃষকদের।

লতোবদী ইউনিয়নের কৃষক শামসুদ্দিন মোল্লা বলেন, “এ সময় মাঠে হাঁটুসমান পানি থাকার কথা। কিন্তু এবার অনেক জমিতে পানি নেই। পাট কেটে দূরের খালে নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচ ও শ্রম দুটোই বেড়ে গেছে।”

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অনেক কৃষক পাট কেটে জমির পাশে স্তূপ করে রেখেছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দূরের নদী কিংবা পুকুরে নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। এতে সময়, শ্রম ও অর্থ—তিনটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস বর্ষাকাল হিসেবে পরিচিত। সাধারণত এ সময় ফসলি জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকে এবং সেই পানির ওপর নির্ভর করেই আমন ধানের আবাদ করা হয়। কিন্তু এবার অনেক এলাকায় সেই স্বাভাবিক চিত্র দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও জমে থাকা পচা পানিও কৃষিকাজে তেমন কাজে আসছে না।

পানির স্বল্পতার প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতেও। খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি কম থাকায় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। নদী ও খালের কিছু অংশে নৌকা চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতিদিন জাল ফেলেও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা।

স্থানীয় জেলে ইব্রাহিম দেওয়ান  বলেন, “খাল-বিলে পানি কম থাকায় আগের মতো মাছ মিলছে না। প্রতিদিন জাল নিয়ে বের হলেও খালি হাতে বা খুব অল্প মাছ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এতে সংসার চালানো ও দাদনের টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাদন বা ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা মেরামত করা অনেক জেলে এখন আর্থিক চাপে রয়েছেন। পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় অনেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।

স্থানীয় কৃষক ও জেলেদের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত এবং নদ-নদীর পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তখন কৃষি ও মৎস্য কার্যক্রমও আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন