শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ২১:৩০, ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে শিবচর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের।
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি খান বাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।
নিহত সম্পা নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, একটি মামলায় সম্পার স্বামী কারাগারে থাকাকালে ফারুকের সঙ্গে সম্পার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় বাসায় নিয়ে এসে ওই নারীকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে। পরে পরিত্যক্ত একটি স্থানে লাশ ফেলে রাখে। এসময় সম্পার এক বছরের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ফারুক।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম ২০ আগস্ট শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশ ও মাদারীপুর র্যাব-৮ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রাজৈর থেকে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে ফারুককে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার ফারুক মোল্লা খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার জয়সোমা এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত প্রায় দশ বছর ধরে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাখরেরকান্দি এলাকায় ভাড়া নেওয়া জমিতে ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, ফারুকের বাসা থেকে নিহতের স্বর্ণের নাক ফুল, রুপার চেইন, একজোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগেও তাকে শিবচর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে ওই শিশুর মরদেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে। হত্যার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার (১৭ মে) বিকালে শিবচর উপজেলার বেইলী ব্রিজ বাজার থেকে চোরাই ৩টি পিকআপ গাড়ির ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করেছিলেন পুলিশ।