জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
প্রকাশ: ১৮:০৩, ৩০ আগস্ট ২০২৬
বাফলার বিলটি উপজেলার রনচণ্ডী ইউনিয়নের বাফলা গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ৩৫০ বিঘা খাসজমির ওপর বিস্তৃত এই বিলটি স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী জলাশয় হিসেবে পরিচিত।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিলজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য পদ্ম ও শাপলা। সকালের সূর্যের আলো পানিতে প্রতিফলিত হয়ে ফুলের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কেউ নৌকায় চড়ে বিল ঘুরছেন, কেউবা ফুলের সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলছেন। নৌকায় পুরো বিল ঘুরতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘণ্টা।
বর্ষা মৌসুমে এই বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েকশ মানুষ। শীতকালে অতিথি পাখির আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে বিলটি। আবার গ্রীষ্ম মৌসুমে পানি শুকিয়ে গেলে স্থানীয় কৃষকেরা সেখানে বোরো ধান চাষ করেন।
পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিলটিতে পর্যটকদের জন্য বসার ব্যবস্থা, খাবারের দোকান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নেই। সরকারি উদ্যোগে এসব ব্যবস্থা করা গেলে বাফলার বিলটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিল দেখতে আসা আনুফা আক্তার বলেন, ‘ফেসবুকে বাফলার বিলের সৌন্দর্যের ছবি ও ভিডিও দেখেছি। ফুল আমার খুব পছন্দ। তাই এখানে ঘুরতে এসেছি। নৌকায় বিল ঘুরেছি, ছবি তুলেছি—খুব ভালো লেগেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহমেদ বলেন, ‘প্রতি বছরই এই বিলে পদ্ম ও শাপলা ফুল ফোটে। সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক পর্যটক আসেন। এখানে বসার ব্যবস্থা ও খাবারের দোকান করা হলে বিলটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও পরিচিতি পাবে।’
রনচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘বাফলার বিলটি একটি ঐতিহ্যবাহী জলাশয়। স্থানীয়রা এখানে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। শীতকালে অতিথি পাখির আগমনে বিলের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে পদ্ম ও শাপলা ফুল ফুটে বিলটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের কয়েকটি নৌকা রয়েছে; পর্যটকেরা চাইলে সেসব নৌকায় বিল ঘুরতে পারেন। সরকারিভাবে বিলটিকে পর্যটনের উপযোগী করা হলে এখানে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।’
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, ‘বিলটির সৌন্দর্য রক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।’