ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ছেলেকে ৫ বছর আটকে রাখার অনুরোধ বাবার

​মোঃমহিউদ্দিন জুয়েল, দোয়ারাবাজার

প্রকাশ: ১১:৩৮, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ছেলেকে ৫ বছর আটকে রাখার অনুরোধ বাবার

সন্তানকে মাদকের নীল ছোবল থেকে ফেরাতে নিজের শেষ সম্বল জমিজমা বিক্রি করেছিলেন বাবা। দুই দফায় প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করে ভর্তি করিয়েছিলেন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে। আশা ছিল ছেলে হয়তো ভালো হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। কিন্তু নিরাময় তো দূরের কথা অন্ধকার পথ থেকে আর ফেরানো যায়নি তাকে।

উল্টো মাদকের টাকার জন্য প্রতিনিয়ত বাবার ওপর চালাত অমানুষিক নির্যাতন। অবশেষে সেই কুলাঙ্গার ছেলে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থানায় ছুটে এসে পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওসির কাছে তাকে দীর্ঘমেয়াদে আটকে রাখার আকুতি জানিয়েছেন এক হতভাগা পিতা।

​চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জে। আটক যুবকের নাম মোঃ সোহাগ মিয়া (২৮)। সে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের নৈদার খামার গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় দীর্ঘদিন ধরে সোহাগ মাদকাসক্ত। ছেলেকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে বাবা দুলাল মিয়া সহায়-সম্বল বিক্রি করে দুই লাখ টাকা জোগাড় করে দু'বার তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠান। তবে চিকিৎসা শেষে ফিরে এসে সোহাগ আরও বেশি উগ্র ও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই সে নিজের জন্মদাতা পিতাকে মারধর করত।

​সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ ইয়াবাসহ সোহাগকে আটক করে। খবর পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে থানায় ছুটে আসেন পিতা দুলাল মিয়া। পুলিশের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি ওসির কাছে অনুরোধ করেন আমার এই ছেলেকে অন্তত পাঁচ বছর আটকে রাখুন। সে মাদক না পেয়ে আমাকে প্রতিদিন মারধর করত আমি ওর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ।

​সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান আটক সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইনানুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন