খুমেকের জরুরি বিভাগে আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

তানভীর সৌরভ,  খুলনা:

প্রকাশ: ০১:৩৩, ২ অক্টোবর ২০২৬

খুমেকের জরুরি বিভাগে আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জরুরি বিভাগের এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম পলাশ। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগকে কেন্দ্র করে তিনি একটি নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন। আর সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সেবার নামে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা মারামারি, সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা অন্যান্য ঘটনায় আহত রোগীদের আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে পলাশের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে পুলিশ কেস-সংক্রান্ত মেডিকেল রিপোর্টে প্রভাব বিস্তার করে তা ‘পজিটিভ’ বা ‘নেগেটিভ’ করে দেওয়ার কথা বলে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি কেসে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রিপোর্টের ফলাফল নেতিবাচক করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী।

তবে অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমেও পলাশ নিয়মবহির্ভূতভাবে হস্তক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণত জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন কোনো রোগীর অস্ত্রোপচার বা বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক তাকে সংশ্লিষ্ট সার্জারি ওয়ার্ডে রেফার করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে কিছু রোগীকে নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জরুরি বিভাগেই চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করে দেন পলাশ। এ ক্ষেত্রে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত নিয়মে যে সেবাগুলো পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকেই রোগী ও স্বজনদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অর্থ আদায়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলতে থাকলে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

জরুরি বিভাগকে ঘিরে এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীদের হয়রানি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন