নিজস্ব প্রতিবেদক,পিরোজপুরঃ
প্রকাশ: ০০:২৭, ৩ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বরাদ্দ দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংগঠনের নজরে আসে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত নাদিম মাহমুদের সঙ্গে সাংগঠনিক কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখতে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাদিম মাহমুদ স্বরূপকাঠী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।
অভিযোগের সূত্রপাত নেছারাবাদ উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ৩০ প্যাকেট দুধ গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ওই দিন বিন্না খালে নৌকাবাইচ উপলক্ষে বিদ্যালয়ে অতিথিদের আপ্যায়নের আয়োজন চলছিল। এ সময় শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা দুধ নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নাদিম মাহমুদ ২৭ প্যাকেট দুধ কিনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত দেন। বাকি তিন প্যাকেট দুধ খেয়ে ফেলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
নাদিম মাহমুদ বলেন, তিনি ও তাঁর দুই বন্ধু বিদ্যালয় থেকে ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়েছিলেন। এসব দুধ শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ—এ বিষয়টি তাঁরা জানতেন না। পরে জানতে পেরে ২৭ প্যাকেট দুধ কিনে বিদ্যালয়ে ফেরত দিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনাটি কয়েক দিন পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে জানানোর কারণে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কয়েক দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানায়নি। এ কারণে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।