ঘাটাইলে যৌতুকের বলি নববধূ, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

মোঃ আকরাম হোসেন, টাঙ্গাইল

প্রকাশ: ১০:৪১, ২ অক্টোবর ২০২৬

ঘাটাইলে যৌতুকের বলি নববধূ, স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

অনলাইন জুয়ার নেশা, অর্থালংকার ও যৌতুকের লোভে মাত্র সাত মাসের মাথায় এক তরুণীর জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে তামান্না ইসলাম তরী (১৮) নামের এক নববধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ঘাতক স্বামী মোহাম্মদ রোমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর খিলগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে এই নির্মম ঘটনাটি ঘটে।

নিহত তামান্না ইসলাম তরী উত্তর খিলগাতী গ্রামের প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ রোমান মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের চাপারকোনা গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন ইন্টারনেট ব্যবসায়ী।

অনলাইন জুয়া ও যৌতুকের বলিকাঁঠপাড়া:

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে পারিবারিকভাবে তরীর সঙ্গে রোমানের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তরীর পরিবার প্রায় সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ উপহার হিসেবে দেয়। নিহতের মা মোসাম্মৎ সাহানাজ বেগমের অভিযোগ, রোমান দীর্ঘদিন ধরে মোবাইলে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়ার দেনা মেটাতে তিনি স্ত্রীর স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নষ্ট করেন। পরবর্তীতে শ্বশুরবাড়ির কাছে আরও টাকার জন্য প্রায়শই তরীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

শেষ রক্ষা হয়নি বাবার বাড়িতেও:

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েক দিন আগে তরী স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে রোমান জোরপূর্বক তরীকে ফেরত নিয়ে যেতে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন। তরী যেতে অস্বীকৃতি জানালে রোমান সবার সামনেই তাকে বেধড়ক মারধর করেন।

পরবর্তীতে রাতে স্বামী-স্ত্রী একই কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক শেষপ্রহরে ঘরের ভেতর থেকে তরীর আর্তচিৎকার শুনে স্বজনরা এগিয়ে যান। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের ডেকে এনে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে তরীকে রক্তাক্ত ও নিস্তেজ অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তরীকে মৃত ঘোষণা করেন।
 

পুলিশের ঝটিকা অভিযানে ঘাতক গ্রেপ্তার:

ঘটনার পর অভিযুক্ত রোমান কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ঘাটাইল ও মধুপুর থানা পুলিশের একটি যৌথ দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুই থানার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হানিফ বলেন, "সংবাদ পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাটাইল থানায় জানাই। মেয়েটির শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।"

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকসেদুর রহমান জানান, "অভিযুক্ত স্বামী রোমানকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও স্পষ্ট হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।"

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন