দুমকিতে দুর্গাপূজার প্রতিমায় শেষ আঁচড়, ব্যস্ত কারিগররা

সাগর চন্দ্র শীল, দুমকি (পটুয়াখালী)

প্রকাশ: ১৮:৩৪, ৩ অক্টোবর ২০২৬

দুমকিতে দুর্গাপূজার প্রতিমায় শেষ আঁচড়, ব্যস্ত কারিগররা

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় এখন উৎসবের আমেজ। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা। শেষ মুহূর্তে প্রতিমায় রং, চোখ-মুখের সূক্ষ্ম কাজ, সাজসজ্জা ও অলংকার পরানোর কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।

উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ প্রায় শেষ। কোথাও চলছে রং করার কাজ, কোথাও দেবী দুর্গার চোখ-মুখের নিখুঁত কারুকাজ। পাশাপাশি চুল বসানো, শাড়ি ও পোশাক পরানো, অলংকার পরানোসহ প্রতিমাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার কাজও চলছে পুরোদমে। এর সঙ্গে কোনো কোনো মণ্ডপে চলছে মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রস্তুতি।

কারিগরদের নিপুণ হাতে মাটির প্রতিমাগুলো ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। দেবী দুর্গার মুখাবয়বের সূক্ষ্ম কাজ, চোখের আঁচড় এবং বিভিন্ন অলংকারে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নান্দনিকতা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমার কাজ শেষ করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন শিল্পীরা।

একজন প্রতিমাশিল্পী বলেন, প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপেই শ্রম ও সময় দিতে হয়। প্রথমে কাঠ, বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর কয়েক দফায় মাটি দিয়ে প্রতিমার অবয়ব তৈরি করে শুকানো, রং ও সাজসজ্জার কাজ করা হয়। শেষ সময়ে কাজের চাপ বেশি থাকলেও প্রতিমা সুন্দরভাবে প্রস্তুত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

দুমকি সার্বজনীন শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিমুল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও চলছে। পূজার দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, দুর্গাপূজা তাদের ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি এখন সবার অংশগ্রহণে একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই উৎসবে অংশ নেবেন—এমন প্রত্যাশা তাদের।

এদিকে, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিক আবহ শুরু হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাপঞ্চমী, ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী পালিত হবে।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দুমকির বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমায় শেষ আঁচড়, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ এগিয়ে চলায় পুরো উপজেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এখন অপেক্ষা শুধু পূজার দিনের—যেদিন ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় মুখর হয়ে উঠবে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন