নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০:৪৭, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
এজাহারের বিবরণে জানা যায়, সখিপুর থানাধীন হাতিবান্ধা ভূমি অফিসের উত্তর পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মো. রিপন মিয়া (৪০) ও তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে জাহিদ হাসান আলমের মালিকানাধীন ১০ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টার দিকে জাহিদ হাসান তাঁর জমিতে কাজ করতে গেলে আসামিরা অনধিকার প্রবেশ করে কাজে বাধা দেন এবং ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরবর্তী সময়ে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহিদ হাসান সখিপুর থানায় ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মামলা নম্বর-৯, পেনাল কোড-১৮৬০-এর ৪৭৭/৩৮৫/৪২৭/৫০৬(২) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের পরিপ্রেক্ষিতে সিপিসি-৩, এসআরবি-১৪, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার গোড়াই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চাঁদাবাজি মামলার এজাহারনামীয় এক নম্বর পলাতক আসামি মো. রিপন মিয়া (৪০), জেলা-টাঙ্গাইলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
এজাহারের বিবরণে জানা যায়, ছয় বছর বয়সী ভুক্তভোগী শিশু অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত ধৃত আসামি সাজেদুল মিয়ার (৩৫) নিজ বাড়িতে প্রাইভেট পড়ত। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রাইভেট পড়ার পর আসামি বিস্কুট খাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে থাকতে বলেন। সেই সুযোগে আসামি কৌশলে শয়নকক্ষে নিয়ে শিশুটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে বিজ্ঞ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল, টাঙ্গাইলে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালতের আদেশে নাগরপুর থানায় ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মামলা নম্বর-৬, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা রুজু হয়। এরপর সিপিসি-৩, এসআরবি-১৪, টাঙ্গাইল ছায়াতদন্তসহ পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় এসআরবি-১৪, টাঙ্গাইলের আভিযানিক দল আসামির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে। গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টায় এসআরবি-১, সিপিএসসি, পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের সহায়তায় গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) গাজীপুর সদর থানার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় পলাতক প্রধান আসামি সাজেদুল মিয়া (৩৫), জেলা-টাঙ্গাইলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।