হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া (বরিশাল)
প্রকাশ: ১৫:১১, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:১৪, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী র্যালি, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করার কথা ছিল। তবে বানারীপাড়ায় কর্মসূচি সীমিত পরিসরে একটি বিদ্যালয়কেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
দিবসটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাকসুদা আক্তার। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে কোনো ধরনের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য বরাদ্দ থাকলে সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে বরাদ্দের পরিমাণ, অর্থ ছাড় এবং ব্যয়ের হিসাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের কর্মসূচিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত না করার বিষয়ে জানতে চাইলে বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঋগপতি রায় জানান, দিবসটি উদযাপনসংক্রান্ত কোনো চিঠি বা তথ্য তাঁদের দপ্তরে পাঠানো হয়নি। ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়নি বলে তাঁর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়।
এ বিষয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটি একটি জাতীয় প্রোগ্রাম এবং এটি সফলভাবে প্রচার করা আমাদের দায়িত্ব। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন অবশ্যই করতে হবে, এককভাবে কেউ এটি এড়িয়ে যেতে পারেন না।”
বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদুর রহমান বলেন, “এটি মূলত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার প্রোগ্রাম।”
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দীপিকা রানী সেনের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দীপিকা রানী সেনের প্রায় ১৩ বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে থাকার ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রমে জবাবদিহি ও তদারকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চাকরিবিধি, পদায়নসংক্রান্ত আদেশ এবং সরকারি নথিপত্র যাচাই করে মূল্যায়ন করা জরুরি।
জাতীয় দিবস উদযাপনে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দ থাকলে তার অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো প্রশাসনিক অবহেলা ছিল কি না—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।
তাঁদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করা হোক। অনিয়ম বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জাতীয় দিবসগুলোর কর্মসূচি যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।