খোরশেদ আলম, নোয়াখালী
প্রকাশ: ১৬:৫২, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
অভিযোগ উঠেছে, নোয়াখালীর সদর সাব রেজিস্ট্রার বুলবুল আহমেদ ঘুষ ছাড়া দলিল নিবন্ধন করেন না। রেজিস্ট্রি ছাড়াও দলিলের নকল কপি তোলা, দানপত্র, বণ্টনপত্র, ঘোষণাপত্র, অংশনামা ও চুক্তিপত্রের মতো দলিল সম্পাদনেও সেবাগ্রহীতাদের দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঘুষ।প্রতি হাজারে গড়ে এই ঘুষের টাকার হার ৬ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। দলিলের নকল বা সার্টিফাইড কপি (Certified Copy) উত্তোলনের সরকারি ফিস মূলত শব্দসংখ্যা, পৃষ্ঠা সংখ্যা এবং নির্দিষ্ট দফার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এখানে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। নির্দিষ্ট অংকের টাকা না দিলে সাব রেজিস্ট্রার নকলে স্বাক্ষর করেন না। তবে এই ঘুষের টাকা দলিল লেখকদের কাছ থেকে নেন অফিস সহকারী (কেরানি)আলাউদ্দিন। সারাদিন ঘুষের টাকা সংগ্রহ করে রাতের বেলায় সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এই টাকা ভাগভাটোয়ারা হয় বলে জানা গেছে। দলিল লেখকরা দাতা গ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রতি দলিলে সমিতি ফ্রি নিয়ে থাকেন ২০০০ টাকা করে। দলিলের টিপসই নিতে দিতে হয় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এই টিপসই টাকা নিয়ে থাকে অফিসের পিয়ন মোয়াজ্জেম হোসেন জীবন।এক কথায় বলা যায় সাব রেজিস্টার বুলবুল আহমেদ এখানে যোগদান করার পর এই অফিসটি ঘোষ ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দলিলের নকলের আবেদন করার পর সাব রেজিস্টারের নির্ধারিত ফ্রি না দিলে তাঁরা মাসের পর মাস ঘোরাতে থাকেন। বলতে থাকেন, দলিল এখনো হয়নি বা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ঘুষ দিলে সঙ্গে সঙ্গেই দলিল বের করে এনে দেওয়া হয়। দলিলে কোনো ধরনের সমস্যা থাকলে ১০ থেকে ২০ হাজার চুক্তি করে ঘুষ নিয়ে কাজ করে দেওয়া হয়। জমি বিনিময় কিংবা বণ্টনের সময় ইচ্ছেমতো ঘুষ আদায় করেন কর্মচারীরা। কোন সেবার জন্য কত টাকা ফি লাগবে, এ রকম কোনো মূল্যতালিকা অফিসে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, জমির দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে জমি বিক্রেতার স্বত্ব নিশ্চিত করার জন্য পর্চা, খাজনা-খারিজ, এনআইডি, ছবিসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারি ফ্রি পৌর এলাকায় সাড়ে ৯ ভাগ হারে কর জমা দিতে হয়। তার পরই একটি দলিল সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের কথা। কিন্তু সেই নিয়ম অনেক সময় মানা হয় না।কোনো কাগজের ফটোকপি থাকলে ১০ হাজার, একই দাতার একাধিক দলিল হলে ৩ হাজার, হেবা দলিলের ক্ষেত্রে ৩ হাজার, হেবার ঘোষণাপত্র এবং দানপত্রে আয়কর বা টিন সার্টিফিকেট না থাকলে ৫ হাজার, বিক্রেতার জমির পর্চায় বাবা, মার নাম থাকলে ৫ হাজার, দাদা, দাদি, নানা, নানির নামে পর্চা থাকলে ১০ হাজার, নামের সঙ্গে ডাক নাম যুক্ত থাকলে ৫ হাজার, বণ্টন নামা দলিল ও রেজিস্ট্রি বায়নার ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয়।
সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক মোহরার বর্তমানে নোয়াখালী জেলা সদর রেকর্ডরুমে কর্মরত গিয়াস উদ্দিন দুলাল বলেন, নোয়াখালী সদরে সাব রেজিস্ট্রিার স্বদেশ চন্দ্র চন্দ্র অন্যত্র বদলি হওয়ার পর বিগত ২ বছর পূর্বে বুলবুল আহমেদ এই অফিসে যোগদান করেন। তিনি যোগদান করার পর শতাংশ হিসাব করে ঘুষ নেন এবং ঘুষের অংক বেড়েছে। নকলের স্বাক্ষর করতে সাব রেজিস্ট্রার বুলবুল আহমেদ ঘুষ নেন প্রতিটি দলিলে ৯০০ টাকা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক জানান,প্রথমেই দলিল লিখে লেখক রা অফিসের সহকারী আলা উদ্দিনের কাছে নেন। তিনি ব্যাংকের প্রে অর্ডার চেক করে। সে দলিলের মূল্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ নিয়ে দলিলে সংকেত চিহ্ন দিলেই সাব রেজিস্টার বুলবুল আহমেদ স্বাক্ষর করেন।
নোয়াখালী সদর সাব রেজিস্টার বুলবুল আহমেদ বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।