বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে দুবাইপ্রবাসী ইমাম

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩:০১, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, বিপাকে দুবাইপ্রবাসী ইমাম

বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা, দুবাইয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং রেসিডেন্স ভিসা বাতিল—একের পর এক সংকটে পড়েছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দুবাইপ্রবাসী ইমাম হোসেন। নিজ বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে উল্টো মামলার আসামি হয়ে আট দিন কারাভোগ করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। জামিনে মুক্তি পেলেও বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়ায় প্রবাসে ফিরতে পারছেন না। ন্যায়বিচারের আশায় বর্তমানে হাইকোর্টে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ৩০ মে ২০২৬ তারিখে ইমাম হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে আসেন তার সৎ ভাই আনোয়ার হোসেন। ওই দিন একদল ব্যক্তি বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ইমাম হোসেন, তার স্ত্রী ও ভাই আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন বলে দাবি পরিবারের। এ সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুট করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর জরুরি সেবায় ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে নিরাপত্তার কথা বলে পুলিশ ইমাম হোসেন ও তার ভাইকে থানায় নিয়ে যায়। এরপর একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

ইমাম হোসেনের দাবি, গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এরপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য একাধিকবার আবেদন করেও প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।

বিদেশে ফিরতে না পারায় দুবাইয়ে থাকা তার দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এবং রেসিডেন্স ভিসাও বাতিল হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইমাম হোসেন। তার ভাষ্য, আইনি লড়াইয়ের ব্যয় বহন করতে স্ত্রীর ব্যবহৃত গয়না, নিজের আইফোন এবং কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জমির একটি অংশ বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তার।

ইমাম হোসেন বলেন, “আমার বাড়িতে হামলা হয়েছে, মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে। অথচ আমাকেই মামলার আসামি হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে। গত চার বছর ধরে বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছি। এখন বিদেশে ফিরতে না পেরে আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি সরকারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে ইমাম হোসেনের আইনজীবী জানান, মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে আদালত তাকে জামিন দেন। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। আইনজীবীর দাবি, এ মামলায় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নেই।

তিনি আরও জানান, বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে রিভিশন দায়ের করা হয়েছিল। তবে সেখানে তাদের যুক্তি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি এবং আবেদন খারিজ করা হয়। বর্তমানে ন্যায়বিচারের আশায় হাইকোর্টে আপিল দায়ের করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন