সীমান্ত সিরাজ, সাভার
প্রকাশ: ২৩:০৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১১, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর উদ্যোগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাভারের এম কে কনভেনশন হলে ‘সাভারে বায়ুদূষণ রোধে ভোক্তাদের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ক্যাবের সাভার উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়।
ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক সীমান্ত সিরাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, এইচআরডিসির সভাপতি ও সনাক-টিআইবি সাভারের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, সাভার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক দীপক কুমার রায়, সাভার নাগরিক কমিটির সভাপতি আবদুর রহিম।
সভায় বক্তব্য দেন ফোয়াস সভাপতি রোটারিয়ান ওয়াকিলুর রহমান,সাভার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জিয়াউর রহমান,সনাক- টিআইবি সদস্য সালাম সাকলাইন,কলকাকলী স্কুলের অধ্যক্ষ শিক্ষক নেতা শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী, ল্যাবরেটরী কলেজের অধ্যক্ষ মো: জাহাঙ্গীর আলম, সাভার সিটিজেন ক্লাব লিমিটেডের সেক্রেটারি লায়ন আলমগীর কবির, দুপ্রকের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহীন আলম, গ্রামীণ শিক্ষার ডিজিএম আবদুর রহমান চৌধুরী,অ্যাডভোকেট বাবুল মোড়ল এবং জাগ্রত বিবেক ফাউন্ডেশনের সভাপতি মনিমুক্তা ইসলামসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।
সভায় বক্তারা বলেন, সাভারের শিল্পাঞ্চল, বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও জনবহুল এলাকায় ধুলাবালি, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা ও কলকারখানার নির্গমন বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। এর ফলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট আইন কার্যকর করা, নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার আন্দোলন আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা, নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে ক্যাবের কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বায়ুদূষণ এখন আর শুধু পরিবেশের সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের সংকটে পরিণত হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে ভোক্তাদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তরুণদের প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ এবং নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সনাক-টিআইবি সাভারের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ভোক্তা অধিকার আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং অধিকার লঙ্ঘিত হলে আইনি প্রতিকার নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ভেজাল পণ্য, ভুল ওজন, নিম্নমানের পণ্য ও পরিবেশদূষণ রোধে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইটভাটা ও কলকারখানার কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
সাভার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক দীপক কুমার রায় বলেন, ভোক্তা অধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণে স্থায়ী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পাঠ্যক্রমে পরিবেশ শিক্ষার গুরুত্ব বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
সাভার নাগরিক কমিটির সভাপতি আবদুর রহিম বাজারে পণ্যের গুণগত মান, মূল্য ও সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সাভারের বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও শিল্পাঞ্চলে ধুলাবালি ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
সাভার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জিয়াউর রহমান বলেন, বায়ুদূষণ ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সাভার সিটিজেন ক্লাব লিমিটেডের সেক্রেটারি লায়ন মো: আলমগীর কবির ক্যাবের কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে সভা, প্রচারাভিযান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনার আহ্বান জানান। সাভারকে নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দুপ্রকের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহীন আলম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অধিকার লঙ্ঘিত হলে আইনি প্রতিকার গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি ভোক্তা অধিকারবিষয়ক আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন প্রচারমূলক কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব দেন।
গ্রামীণ শিক্ষার ডিজিএম আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ভোক্তা অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে পরিবেশ আন্দোলন গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নিরাপদ খাদ্য, ন্যায্য মূল্য, সঠিক ওজন এবং মানসম্মত পণ্য নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী, আড়তদার, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ক্যাবের সাভার উপজেলা কমিটিকে সক্রিয় করে প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন তিনি।
জাগ্রত বিবেক ফাউন্ডেশনের সভাপতি মনিমুক্তা ইসলাম নিরাপদ খাদ্য নির্বাচন ও ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধিতে নারী ও পরিবারের সদস্যদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি রান্নার ধোঁয়া, প্লাস্টিক পোড়ানো এবং গৃহস্থালি পর্যায়ের বায়ুদূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণের প্রস্তাব করেন।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা, ভেজালবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং নিরাপদ পরিবেশনিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সৎ ও নীতিনিষ্ঠভাবে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাভার উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। এতে ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামাননকে সভাপতি এবং সাংবাদিক সীমান্ত সিরাজ কে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন,ন নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে সাভারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, ভেজালবিরোধী কার্যক্রম, নিরাপদ পণ্য নিশ্চিতকরণ এব বায়ুদূষণবিরোধী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও গতিশীল হবে।