শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও চিঠি

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ০০:০৩, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও চিঠি

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স পঞ্চমবারের মতো গণনা করা হয়েছে। এবার এসব দানবাক্স থেকে নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৮ টাকা, এক ভরির বেশি স্বর্ণ, তিন ভরির বেশি রুপা এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া মাজারে মানত করা শতাধিক গরু-ছাগলের হিসাবও তুলে ধরা হয়। দানবাক্সের টাকার স্তূপ থেকে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত চিঠির পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে লেখা রাজনীতি সংস্কারবিষয়ক একটি বেনামি আবেদনপত্র পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে দানবাক্স গণনার কাজ শুরু হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মাজার পরিচালনা কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ তদারকিতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে বিকেলে জেলা প্রশাসক গণনার সার্বিক তথ্য প্রকাশ করেন।

চিঠিতে রাজনীতি সংস্কারের প্রস্তাব

উদ্ধার হওয়া চিঠিগুলোর মধ্যে আলোচনায় এসেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে লেখা একটি বেনামি আবেদনপত্র। এতে বিএনপির কর্মী ও সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে কর্মী হতে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৫ এবং সদস্য হতে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ২.৫ পাওয়ার শর্ত রাখার কথা বলা হয়। পাশাপাশি পরীক্ষার আগে কোনো কিশোরকে রাজনৈতিক দলে যুক্ত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেদনপত্রে লেখা ছিল, ‘আই ওয়ান্ট দ্য চেঞ্জ টু কাম থ্রু ইউ’।

চার দফায় দানবাক্সে জমেছিল ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা

দীর্ঘদিনের প্রথা পরিবর্তন করে গত ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে নতুন সিলগালাকৃত দানবাক্স স্থাপন করা হয়। এরপর চার দফায় দানবাক্স গণনা করে মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা পাওয়া যায়।

এর মধ্যে ২২ জুন প্রথম দফায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা, ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মোট অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের সার্বিক উন্নয়নকাজে ব্যবহারের জন্য সোনালী ব্যাংকের যৌথ হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ অর্থ দৈনন্দিন ব্যয় এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় করা হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন