মিজানুর রহমান, ঝিকরগাছা (যশোর)
প্রকাশ: ১৭:৩৬, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ) অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ও অবাধ বিচরণের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং প্রধান কর্মকর্তার লিখিত নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রতিনিধিরা তা তোয়াক্কা করছেন না বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সেবা কার্যক্রমে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকেই ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভিড় জমতে শুরু করে। বহির্বিভাগে অসুস্থ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু একই সময়ে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ওষুধের প্রচার ও বিপণনের জন্য চিকিৎসকদের কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করেন। রোগীদের উপস্থিতি ও ব্যস্ততার মধ্যেও চিকিৎসকদের কক্ষে অপ্রয়োজনীয় ভিড় জমায় প্রতিনিধিরা। এমনকি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) দেখা, ছবি তোলা এবং তথ্য সংগ্রহের মতো কাজের কারণে চরম অস্বস্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রার্থীরা। এতে চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে, তেমনই ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসকদের স্বাভাবিক মনোযোগ। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রধান কর্মকর্তা কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার সময়ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ) অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ও অবাধ বিচরণের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায় চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুর রশিদ বলেন, সরকার ও স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিজিট করার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তাঁদের সাথে আলোচনা করে প্রতি সপ্তাহের সোমবার বেলা ১টার পর থেকে দেড় ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই নির্ধারিত সময়ের বাইরে হাসপাতালের ভেতর প্রতিনিধিদের প্রবেশ সম্পূর্ণ অবৈধ। কেউ যদি লুকিয়ে বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অগোচরে প্রতিদিন হাসপাতালে আসেন, তবে তা নিয়মের চরম বরখেলাপ। তিনি জানান, হাসপাতালের আনসার সদস্য ও কর্তৃপক্ষ নিয়মিত রাউন্ডের মাধ্যমে তদারকি করছে এবং কেউ ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এরপরও যদি তাঁরা নিয়ম অমান্য করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিনিধিদের সংগঠন 'ফারিয়া'র প্রসঙ্গ টেনে ডা. আবদুর রশিদ আরও বলেন, প্রতি মাসে আমাদের হাসপাতালে যে অভ্যন্তরীণ মাসিক সমন্বয় সভা হয়, সেখানে তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকেন। তাঁরা আইন ও নিয়ম মেনে কেবল সোমবার নির্দিষ্ট সময়ে ভিজিট করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। তবে বাস্তবে সেই কথা রাখা হচ্ছে না এবং অগোচরে নিয়ম অমান্যের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। হাসপাতাল প্রধানের এসব নির্দেশনা ও কড়া বার্তা সত্ত্বেও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তা তোয়াক্কা না করে নিয়মিত চিকিৎসকদের কক্ষে ভিড় জমাচ্ছেন। এর ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সচেতন মহলের মতে, ওষুধের গুণাগুণ তুলে ধরা প্রতিনিধিদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ হলেও হাসপাতালের সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলাই তাঁদের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের একমাত্র চিকিৎসাসেবার নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। এখানকার পরিবেশ সুশৃঙ্খল ও রোগীবান্ধব রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, কড়া নজরদারি এবং নিয়ম অমান্যকারী মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগীরা।