রাসিক প্রশাসক

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি হকারদের পুর্নবাসন করা হবে

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন, রাজশাহী

প্রকাশ: ১৬:২৪, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি হকারদের পুর্নবাসন করা হবে

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, রাজশাহী মহানগরীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। নাগরিকদের স্বাচ্ছ্যন্দে ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিতকরণে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ভদ্রা, মহিলা কলেজ রোড ও মেডিকেলের সামনের একাংশে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর,জিরোপয়েন্ট,সোনাদিঘি মোড়,রেলগেট, গণকপাড়া সহ সহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলে রয়েছে। এসব ফুটপাত দখলমুক্ত করতে যা যা করা প্রয়োজন তাই করবো। দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পর্যায়ক্রমে পুর্নবাসন করা হবে।

ফুটপাত দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে রবিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজারস্থ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন সিটি কর্পোরেশনের মার্কেটের সাহেব বাজার কাঁচা বাজার, মাছপট্টি, মাংসপট্টি, কসাইখানা এবং উক্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বিভিন্ন পরিত্যক্ত দোকান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

পরিদর্শন শেষে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহী মহানগরীকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিণত করতে চাই। মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর একজন কর্মী হয়ে আমিও কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। রাজশাহী মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই।

তিনি আরো বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে আমি বাধাগ্রস্ত হচ্ছি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি পাচ্ছি। তবে এসব হুমকিতে আমি ভীত নই। আমার জীবন থাকা পর্যন্ত আমি রাজশাহীকে গোছাবো। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজশাহী নগরীকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, দখলমুক্ত, বাসযোগ্য, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ করে হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

রাসিক প্রশাসক আরো বলেন, সাহেব বাজার কাঁচাবাজার ও মাছপট্টির দ্বিতীয় তলায় ৮৯টি দোকান অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব দোকান ও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে সেগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সেই লক্ষ্যে বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। মার্কেটটি নতুনভাবে নির্মাণ বা আধুনিকায়ন করা যায় কি না, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ সাঈদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দীন আরজু, রাজস্ব কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন খোকন এবং উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় চন্দ্রিমা থানা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম জনি, মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মুঈদুর রহমান মুঈদ, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন বিপ্লব, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবার আলী জ্যাকি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান সৌরভ, ১১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ শান্ত, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন