জাকারিয়া শিকদার /গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ২০:৫২, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুর মহানগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের হারিনাল এলাকায় এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম মাহমুদুল হাসান সাকিব (২৮)। তিনি মহানগরীর সদর থানাধীন ধীরাশ্রম এলাকার আক্কাস আলীর ছেলে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হারিনাল এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে সাকিবের স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে আনতে গিয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তিনি।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সাকিবের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ইতির পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ইতি নিয়মিত টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ করতেন। সাকিব এতে আপত্তি জানালে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। এই দ্বন্দ্বে গত প্রায় এক বছর ধরে তাঁদের ছয় বছরের ছেলে সন্তান আরিয়ানকে রেখে ইতি হারিনাল এলাকায় বাবার ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্বজনরা জানান, রোববার সন্ধ্যায় ছেলে আরিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে সাকিব স্ত্রী ইতিকে নিজ ঘরে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে ইতি সাকিবের সঙ্গে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে উভয়ের মধ্যে বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ঝগড়ার একপর্যায়ে সাকিবকে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
নিহতের মা দাবি করেন, ঘটনার সময় কক্ষের দরজা-জানালা খোলা ছিল। এমনকি মরদেহ নামিয়ে তড়িঘড়ি করে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বাধা দেন এবং পুলিশে খবর দেন।
এদিকে নিহতের ছয় বছরের শিশুসন্তান আরিয়ানের বরাত দিয়ে স্বজনরা দাবি করেন, ইতি তাঁর বাবাকে গলাটিপে হত্যার পর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেন। পরে শিশুটি বিষয়টি আশপাশের প্রতিবেশী এবং তার দাদিকে ফোনে জানায়। তবে ঘটনার সময় শিশুটির বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্ত্রী ইতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন এবং তাঁদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে গাজীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে গাজীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।