রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি

রঞ্জিত কুমার শীল, ঈশ্বরদী, পাবনা

প্রকাশ: ১১:১৪, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

রূপপুরে পৌঁছাল দ্বিতীয় ইউনিটের ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। 

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানিবাহী তিনটি লরি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এর আগে সোমবার সকালে রাশিয়া থেকে আনা পারমাণবিক জ্বালানিবাহী একটি বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি ভারতের দিল্লি হয়ে আসে। এতে ১২টি টিপিএসে মোট ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়। 

বিমানবন্দরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা জ্বালানি বুঝে নেন।

মঙ্গলবার সকালে জ্বালানিবাহী তিনটি লরি ঢাকা থেকে সড়কপথে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার দাশুড়িয়া হয়ে লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান দেখা যায়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

পুলিশ ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি পরিবহনের সময় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। মহাসড়কে যানজট এড়াতে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানির তৃতীয় চালানটি মঙ্গলবার রূপপুরে পৌঁছেছে।

আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আরও সাতটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এসব চালান কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির জ্বালানি সরবরাহ ও স্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ইউনিট দুটির কমিশনিং এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন