ডেঙ্গু প্রতিরোধে নভেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান চসিক প্রশাসকের

মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রামঃ

প্রকাশ: ১২:০৩, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৪, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নভেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান চসিক প্রশাসকের

ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে নভেম্বর মাস পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, বৃষ্টি কমে গেলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি শেষ হয়ে যায় না। বিগত বছরের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশক নিধন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ডেঙ্গুর হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি নগরীতে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

চসিক প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টবের নিচে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার ও পানির ট্যাংকে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হতে পারে। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার করে পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় জানানো হয়, চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ছোট ওয়ার্ডগুলোতে তিনজন করে এবং বড় ওয়ার্ডগুলোতে পাঁচজন করে কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শ কর্মী এ কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। মশক নিয়ন্ত্রণে বিটিআইসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ এবং অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এসব কার্যক্রম নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রশাসক বলেন, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের তদারকি আরও জোরদার করতে হবে।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোগীদের যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকদের রোগীদের শারীরিক অবস্থার প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের মশারির মধ্যে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ানোর পর সেই মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন