এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১২:১০, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:১২, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন ও ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিডিএর এ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও প্রশ্ন উঠেছে—অনুমোদিত নকশা অমান্য করে নির্মাণকাজ কতটা কার্যকরভাবে তদারকি করা হচ্ছে এবং অনিয়মের শুরুতেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে কি না।
সিডিএর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) হামীমুন তানজীন এবং অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে চারটি ভবনের নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। দুটি ভবন সিলগালা করা হয়। পাশাপাশি নকশার বাইরে নির্মাণকাজ না করার বিষয়ে হলফনামা নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বাস্কেটসহ আরও দুটি ভবনের মালিককে সতর্ক করা হয়।
তবে কোন ভবনে কী ধরনের নকশাবহির্ভূত নির্মাণ পাওয়া গেছে, কতটুকু অংশ ভাঙা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর বিরুদ্ধে আগে কোনো নোটিশ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ শুধু প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা নয়; এটি নগর পরিকল্পনা, ভবনের নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের স্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত। নকশাবহির্ভূত নির্মাণের ফলে ভবনের নির্ধারিত ব্যবহার, খোলা জায়গা, চলাচলের ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকল্পনাগত শর্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ভবনে এসব ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি ও কারিগরি পরিদর্শনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। ভবনমালিকদের সিডিএ অনুমোদিত নকশা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্মাণকাজ পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ও নির্মাণসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে ভবনমালিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নগরীতে নকশাবহির্ভূত নির্মাণ প্রতিরোধে শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ভবনে অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণকাজ চলাকালেই তা বন্ধ করা গেলে অনিয়মের বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
সিডিএ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরীকে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে এবং ভবন নির্মাণসংক্রান্ত বিধিবিধানের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে অভিযানের কার্যকারিতা মুল্যায়নে ভবনভিত্তিক অনিয়মের তথ্য, গৃহীত ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং পরবর্তী সময়ে বিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। নগরবাসীর প্রত্যাশা, নকশাবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান যেন বিচ্ছিন্ন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত ও জবাবদিহিমূলক তদারকির অংশ হয়।