লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: আব্দুল আহাদ
প্রকাশ: ১৮:৫৫, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে লক্ষ্মীপুরে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, গত ৫৬ বছরে ক্ষমতার পালাবদল হলেও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন আসেনি। জুলাইয়ের পর রাজনীতিবিদরা কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন দূতাবাস ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দেনদরবারে ব্যস্ত ছিলেন। তখন শাহবাগে দাঁড়িয়ে শহীদ ওসমান হাদী বলেছিলেন, জুলাই শহীদদের রক্ত ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি নয়; বরং এটি আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলা, ইনসাফের পক্ষে লড়াই করা এবং দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করার কারণে শহীদ ওসমান হাদীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত সরকার তাঁর হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি, এমনকি কোনো আশ্বাসও দেয়নি। যে সরকার নাগরিকদের বিচার, খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারবে না, সেই সরকারকে কি শোকেসে সাজিয়ে রাখার জন্য ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছি?
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে ইনকিলাব মঞ্চের এ নেতা বলেন, প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যার শিকার হচ্ছে, গুম হচ্ছে; তবুও সরকারের টনক নড়ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কার না করে গণমাধ্যমের সামনে এসে পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলা হচ্ছে। অথচ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত রয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে সংবিধান ও সনদে পুলিশ সংস্কার কমিশন এবং বিচারব্যবস্থা সংস্কারের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গণভোটের রায়ও মানা হয়নি। এতে জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
জাবের বলেন, “আমরা জনগণের সরকার চাই। জনগণের সরকারকে জনগণের মতো করেই রাজনীতি পরিচালনা করতে হবে। তারা যদি দিল্লির আধিপত্যবাদ কায়েম করতে চায়, আর আমাদের তাদের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করতে হয়, তাহলে মনে রেখো, এই জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিল, আমরাও আগামীতে আবার বাংলাদেশের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো, ইনশাআল্লাহ।”