শেখ মোস্তফা কামাল, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ২২:০৭, ৮ নভেম্বর ২০২৬
যশোরের কেশবপুরে যাত্রীবেশে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে উঠে চালককে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মাদারডাঙ্গা এলাকায় নতুন হাট–গড়ভাঙ্গা সড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন ভ্যানচালক রেজাউল (৪৮)। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত রেজাউল কেশবপুর পৌর এলাকার ভোগতী গ্রামের আনসার সরদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি যাত্রীবেশে রেজাউলের ব্যাটারিচালিত ভ্যানে উঠেন। পথিমধ্যে মাদারডাঙ্গা এলাকায় নতুন হাট–গড়ভাঙ্গা সড়কে পৌঁছালে সুযোগ বুঝে পেছন থেকে চালককে ছুরিকাঘাত করেন ওই ব্যক্তি। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় চালককে ফেলে রেখে ভ্যানটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান তিনি।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউলকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করা হয়।
খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কেশবপুর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা, খুন-জখমসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর সামনে আসছে। বিশেষ করে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় বের হওয়া ভ্যানচালক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দিনদুপুরে কিংবা সন্ধ্যার পর যাত্রীবেশে অপরাধীদের এমন তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়াচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, অপরাধীরা কীভাবে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে? এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও তৎপরতা কতটা কার্যকর?
স্থানীয়দের দাবি, শুধু ঘটনার পর তদন্ত নয়, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, নির্জন এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়াতে হবে।
সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। তাই কেশবপুরে সাম্প্রতিক অপরাধের ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।