শেয়ারবিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩:০৮, ৮ নভেম্বর ২০২৬
রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. শহিদুল ইসলাম শুনানি শেষে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে এদিন উপস্থিত ছিলেন আসামি আব্দুল্লাহ আল তাসনিম, নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপন এবং আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী। তাদের পক্ষে আইনজীবী জায়েদুর রহমান জাহিদসহ অন্য আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করেন। কারাগারে থাকা আসামি হাদিসুর রহমান সাগরকে ভার্চ্যুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ তাদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জানায়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আসামিদের আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত দেন।
মামলার অন্য দুই আসামি মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন পলাতক থাকায় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার পটভূমি
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে নিজ বাসায় খুন হন মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী। তার বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ফয়সাল ফারুকী অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। এতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করতে না পারা ছয়জন এবং পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় আরও ছয়জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। পরে আদালত তাদের অব্যাহতি দেন।
অভিযোগপত্রে হত্যার পরিকল্পনার বিবরণ
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন ২০১৪ সালের ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় ঢাকার আশুলিয়ার কামারপাড়ায় ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজের পাশের একটি বাড়িতে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সেখানে জেএমবি নেতা জামাই ফারুকের সহযোগী ইমনের শ্বশুরবাড়িতে কয়েকজনের বৈঠক হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, মতাদর্শগত বিরোধের জেরে জেএমবির একটি অংশের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে ফারুকীকে হত্যা করেন। পরে তার বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ফারুকী সুফি মতাদর্শের অনুসারী ও ইসলামি বক্তা ছিলেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জেএমবির মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। মাজারকেন্দ্রিক কার্যক্রম ও ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে বিরোধের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিচারিক সত্যতা সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আদালতে নির্ধারিত হবে। আগামী ৬ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।