মোঃ আবুল বাসার, যশোর
প্রকাশ: ১৩:৪০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়ে শনিবার সকাল থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জড়ো হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রার্থীরা। এ সময় তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনেক অভিভাবকও উপস্থিত ছিলেন।
প্রার্থীদের হতাশা ও কান্না চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কোন সুনির্দিষ্ট কারণে তাদের বাদ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের অজুহাতে এভাবে বাদ দেওয়ার বিষয়টি তাদের আগে জানানো হয়নি।
নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থী মাহফুজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি চাকরি করার স্বপ্ন নিয়ে আট বছর ধরে ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করেছি। অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে ২০২৫ সালের নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ভেবেছিলাম আদর্শ শিক্ষক হব। গত বৃহস্পতিবার তালিকায় নাম না পেয়ে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন এই খবর নিয়ে গ্রামের বাড়ি কোন মুখে ফিরব-?
আরেক প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর তো চাকরি নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলাম। এই আট মাস অন্য কোথাও চাকরির জন্য আবেদন বা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগও হাতছাড়া করেছি। ভেরিফিকেশনের নামে আমাদের সঙ্গে প্রহসন করা হয়েছে।
ছেলের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নেওয়া কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বিনা টাকায় চাকরি হওয়ায় গ্রামের সবাই খুশি হয়েছিল। রাতে শুনি ছেলেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ কথা শুনে ছেলের মা খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা কোনো দলের রাজনীতি করি না, তাহলে আমাদের অপরাধ কী-?
শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গেলে যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পথ আটকে নিজেদের দুর্দশার কথা জানান বঞ্চিত প্রার্থীরা।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী তাদের কথা শুনে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুতই আপনাদের সমস্যা সমাধান কিংবা বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাবেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে যশোরে মোট ২৯০ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে ১৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১০৬ জনের বিষয়ে ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।