সুনামগঞ্জে ভেরিফিকেশনের ফাঁদে ১২০ মেধাবী শিক্ষকের স্বপ্নভঙ্গ

মোঃ জানে আলম, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ: ১২:০৫, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জে ভেরিফিকেশনের ফাঁদে ১২০ মেধাবী শিক্ষকের স্বপ্নভঙ্গ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও সুনামগঞ্জের ১২০ প্রার্থীর নিয়োগ আটকে গেছে। গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও পুলিশের ডিএসবি’র ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের কারণে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

দীর্ঘ প্রায় আট মাস অপেক্ষার পর নিয়োগের দ্বারপ্রান্তে এসে এমন অনিশ্চয়তায় হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে প্রার্থীদের মধ্যে। জেলার ৬৩৫টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ প্রক্রিয়া চললেও ১২০ জনকে আপাতত নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে কোন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ আটকে দেওয়া হলো? ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

গত শনিবার বঞ্চিত প্রার্থীরা জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান।

তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের আমিরুল হাসান ২০২১ সালে এমসি কলেজ থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর গত আট মাস ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত নিয়োগপত্রে নিজের নাম না দেখে তিনি হতাশ হয়েছেন। তার দাবি, কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই এবং থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরিও নেই।

একই গ্রামের মহসিন মিয়া সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স সম্পন্ন করেছেন। পিতামাতাহীন মহসিন টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কারণে নাম বাদ পড়ার কথা শুনে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের সামন্ত কুমার দাস বলেন, উপজেলা মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিল নবম। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চাকরিতে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকায় তিনি হতবাক। তার দাবি, কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত নন এবং তার বিরুদ্ধেও কোনো মামলা নেই।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, জেলার ৬৩৫টি শিক্ষক পদের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আপাতত ১২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান বলেন, সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে অনেকে বাদ পড়ার বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং বিভাগীয় পর্যায়েও বিষয়টি জানানো হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায়সংগত অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে নিয়োগ থেকে বাদ পড়া ১২০ প্রার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাদের দাবি, মেধা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও যদি ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগ আটকে যায়, তাহলে সেই যাচাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন