মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১২:২৫, ৭ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে বেতন-ভাতা ছাড় না করার নির্দেশ দেন উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, চুয়েটে ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা ও ৫১২ জন কর্মচারী রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ কর্মবিরতিতে রয়েছেন। এর মধ্যেই বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত এলো।
ব্যাংক ব্যবস্থাপককে দেয়া চিঠিতে উপাচার্য উল্লেখ করেন, তার পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতন-ভাতার বিল পাঠানো অননুমোদিত ও বেআইনি। চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭) অনুযায়ী উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। নির্দেশনা অমান্য করে ব্যাংক বেতন-ভাতা ছাড় করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন-বোনাস পরিশোধে উপাচার্যের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই বেতন-ভাতা ছাড় করা হয়। সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার শিটেও তারা স্বাক্ষর করে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। উপাচার্যের চিঠির পর তা আটকে গেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন থেকে বিরত রাখতেই বেতন-ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতেও বিভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও কখনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-বোনাস বন্ধ হয়নি।
সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর করা বেতন-ভাতার শিট তারা গ্রহণ করেছিলেন। পরে উপাচার্যের চিঠিতে বেতন-ভাতা স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আইনি মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ কর্মবিরতিতে যোগ দেন।
টানা ১৫ দিনের আন্দোলনে চুয়েটের ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।