জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে পাবিপ্রবি ছাত্রদলের আলোচনা সভা

ছামিউল চৌধুরী, পাবিপ্রবি

প্রকাশ: ২১:৩৩, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে পাবিপ্রবি ছাত্রদলের আলোচনা সভা

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
‎
‎রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের গ্যালারি-২ তে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
‎
‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোজাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কে এম তরিকুল ইসলাম।
‎
‎এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান তাফহীমূল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওলী-উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মইন অলিভ, দপ্তর সম্পাদক ইনজামামুল হক সজল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
‎
‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “আজকের আলোচনার বিষয় ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস। যখন যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য ডাকা হবে, তখন সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা করতে হবে। আমরা শুধু ইতিহাস শিখতে চাই না; ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব বুঝে ভবিষ্যতে এ দেশের মানুষকে বিষয়টি বোঝাতে চাই। আজকের দিনে কী ঘটেছিল, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।”
‎
‎তিনি আরও বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা খুব বেশি নেই। কোনো দেশের সেনাপ্রধান গৃহবন্দি হওয়ার পর তাঁকে মুক্ত করার জন্য সাধারণ সিপাহি ও জনতা ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশ করেছে—এমন ঘটনা বিরল। এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।”
‎
‎তিনি বলেন, “সেদিন শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কী হতে পারত, কারা তাঁকে মুক্ত করেছিল, কেন মুক্ত করেছিল এবং কাদের স্বার্থে মুক্ত করেছিল—এসব বিষয়েও ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতি হন। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ দায়িত্ব ছাড়ার পর নিজের দক্ষতায় জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পান এবং দায়িত্ব পালন করেন।
‎
‎সভাপতির বক্তব্যে মোজাহিদ হোসেন বলেন, “৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক বিপ্লব। এর তাৎপর্য ও গুরুত্ব আমাদের বুঝতে হবে। ৭ নভেম্বর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টি আমাদের জানতে হবে।”
‎
‎তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করে। মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন, সার্বভৌম, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পরও সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অত্যাচার, নিপীড়ন ও দুর্নীতি বেড়ে যায়। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা হারায়।”
‎
‎তিনি আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই একটি মহান বিপ্লব সংঘটিত হয়। এর ফলে প্রতিবেশী দেশের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায় এবং বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।”

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন