নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪:১১, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে , বিগত কয়েক বছর ধরেই মানব পাচারকারী চক্রের এই মুল হোতা শতশত মানুষকে বিভিন্ন পন্থায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসেন।এরপর তাদের কাছ থেকে আরও টাকার জন্য বন্দী করে রাখেন। বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে নিজের শেষ সম্বল এমনকি ভিটেবাড়িও বিক্রি করে দিয়েছেন।
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নেয়া বন্ধ থাকায় সম্প্রতি মানব পাচার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে। ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড হয়ে নদীপথ আর জঙ্গল দিয়ে অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় মানুষ প্রবেশ করাচ্ছে পাচারকারীরা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী জানান, এসব মানব পাচারের হোতা আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দেয়া এই সেলিম জালাল। এছাড়া ভিসা নবায়ন করে দেয়ার নামেও শতশত মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা না করে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই সেলিমের কারণে শতশত মানুষ এখন মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জঙ্গলে থাকছে, ভয়ংকর সাপ ও বন্যপ্রাণীর সাথে।
মানবপাচারকারী সেলিম জালাল নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও মালয়েশিয়ায় নেই তার কোন বৈধ ব্যবসা।আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে ছবি দেখিয়েই দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে সে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানবপাচার ছাড়াও নানান অবৈধ কাজের হোতা এই সেলিম। কিন্তু তার বিলাসবহুল লাইফস্টাইল, জার্মানীর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি এসব দেখিয়ে গত কয়েক বছরে অন্তত ১৭জন ব্যক্তির কাছ থেকে নানান পন্থায় মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তথ্য বলছে, কারো কারো কাছ থেকে নেয়া টাকার হিসাব কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, মালয়েশিয়াতেই কয়েকটি বিয়ে করা সেলিম এসব কাজে নিজের স্ত্রীদেরও ব্যবহার করেন।তার এই প্রতারণার ফাঁদে যুক্ত স্ত্রীদের লাইফস্টাইল যেকোন রাজপরিবারের সদস্যদের সাথে তুলনা করলেও তা ভুল হবে না।
সমাজবিজ্ঞানীরা জানান, এ ধরণের প্রতারকদের মানুষকে হিপটোনাইজ করার অসাধারণ ক্ষমতা থাকে, সে কারণে এরা খুবই বিপজ্জনক।সমাজে এদের উপস্থিতি যুব সমাজের স্বাভাবিক বিকাশের পথে বড় বাধা। এই ধরনের প্রতারক চক্রকে সমাজ থেকে আলাদা করতে হবে, সেই সাথে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন যাতে আর কেউ এমন পন্থায় মানুষেরও শোষণ ও প্রতারণা করতে না পারে।
হাই কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, তার ব্যাপারে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে শিগগিরই।