সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩:১৩, ১১ জুলাই ২০২৬
নিহত শোয়াইব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শওকত বিশ্বাসের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় শোয়াইবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর ভগ্নিপতি মো. তুহিন হাসান। তিনি জানান, পরিবারের একমাত্র ভরসাদের একজন ছিলেন শোয়াইব। তাঁর এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এখন সরকারের সহযোগিতায় দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছেন স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় যান শোয়াইব। সেখানে কুয়ালালামপুরের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ছুটিতে দেশে ফিরে পরিবার ও স্বজনদের ইচ্ছায় বিয়ে করেন। মাত্র দুই মাস সংসার করে গত ১ জুলাই আবার কর্মস্থলে ফিরে যান।
মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু এলাকায় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের অধীনে কর্মরত ছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটিং পাইপ স্থাপনের কাজ চলাকালে একটি বুম ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, "শুক্রবার দুপুরে কোম্পানিতে কর্মরত এক বাংলাদেশি আমাকে ফোন করে শোয়াইবের মৃত্যুর খবর জানান। পরে তিনি ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও পাঠান। সেগুলো দেখে পরিবারের কেউই নিজেকে সামলাতে পারছেন না। কোম্পানি জানিয়েছে, মরদেহ দেশে পাঠাতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি, যেন দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।"
এ বিষয়ে ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, যদি নিহত ব্যক্তি বৈধভাবে কোনো কোম্পানির অধীনে কর্মরত থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কোনো জটিলতা দেখা দিলে নিহতের পরিবার প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
এদিকে শোয়াইবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুরুটিয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বাড়িতে কয়েক সপ্তাহ আগেও বিয়ের আনন্দে মুখর পরিবেশ ছিল, সেখানে এখন শুধু কান্নার আহাজারি। স্বজনদের একটাই আকুতি—শেষবারের মতো যেন প্রিয় সন্তানের মুখটি দেখতে পারেন, আর তাঁর মরদেহ দ্রুত নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসে।