রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের আশায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:৫৯, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের আশায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

রাশিয়া থেকে বাড়তি ডিজেল সরবরাহের সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো নিম্নমুখী হয়েছে তেলের বাজার। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৩টা ২৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ ডলার ৩০ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ ডলার ২৫ সেন্ট বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৪৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।

এর আগের কার্যদিবসে উভয় মানদণ্ডের তেলের দাম প্রায় ২ ডলার করে বেড়েছিল। ব্রেন্টের দাম ১৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ বাড়াতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর রাজস্ব কমানোর লক্ষ্যে রুশ জ্বালানির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে তাঁর প্রশাসন। বাড়তি সরবরাহের সম্ভাবনা বিশ্ববাজারে জ্বালানির সংকট কিছুটা কমাতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ ছিল।

তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশ্লেষকদের। ট্রাম্পের ঘোষণার পরও রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে খবর আসায় এ অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে বলে এক নোটে জানিয়েছে ইংয়ের বিশ্লেষকেরা।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহনপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। সপ্তাহান্তে ইরান-সমর্থিত হুতিদের রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে ট্যাংকারে হামলার খবরও এসেছে।

এসব ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং সৌদি আরব থেকে সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় বাজারে সামান্য স্বস্তি এসেছে। তবে বাড়তি তেল সরবরাহের আশ্বাসের চেয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ ও পাইপলাইনে নতুন করে হামলার ঝুঁকি নিয়েই বাজার বেশি উদ্বিগ্ন।

তিনি আরও বলেন, উত্তেজনা কমার স্পষ্ট লক্ষণ না পাওয়া পর্যন্ত তেলের দাম বাড়ার প্রবণতাই সবচেয়ে সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন