সৈয়দ মিরাণ শাহ তাঁতারী (রহ.): ইসলামের আলো ছড়ানো এক অনন্য সাধক

খ.ম.জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়ীয়া)

প্রকাশ: ১২:৪৬, ১১ নভেম্বর ২০২৫

সৈয়দ মিরাণ শাহ তাঁতারী (রহ.): ইসলামের আলো ছড়ানো এক অনন্য সাধক

হক্কানি আলেম–ওলামা, পীর–মাশায়েখ ও আল্লাহর ওলিরা যুগে যুগে মানবজাতির কাছে ইসলামের সঠিক মর্মবাণী ও আদর্শ পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁদের ত্যাগ, দিকনির্দেশনা ও আধ্যাত্মিক সাধনার ফলেই মানবসমাজ আজও ইসলামি মূল্যবোধে আলোকিত। এই ধারার অন্যতম আলোকবর্তিকা ছিলেন সুফি সাধক সৈয়দ মিরাণ শাহ তাঁতারী (রহ.), যিনি ছিলেন হজরত শাহ জালাল (রহ.)–এর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম এক বিশিষ্ট রুহানী ব্যক্তিত্ব।

১৮৩৬ সালে রাশিয়ার তাতারস্থান প্রদেশে এক সম্ভ্রান্ত সৈয়দ পরিবারে জন্ম নেন সৈয়দ নাছিরুদ্দিন মুহাম্মদ মিরাণ শাহ তাঁতারী (রহ.)। তিনি তরিকায়ে কাদেরিয়ার একজন সুফি সাধক ও ধর্মপ্রচারক ছিলেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ ছিলেন পীরানে পীর হজরত গাউসুল আজম আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)–এর বংশধর। শৈশবে পিতার ইন্তেকালে তিনি পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হন। পরবর্তীতে মায়ের দোয়া ও গাউসুল আজমের ফয়েজে তাঁর জীবনে আসে আধ্যাত্মিক পরিবর্তন।

তরুণ বয়সে তিনি দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে হিন্দুস্থানে (ভারত) সফর করেন। দীর্ঘ বারো বছর রিয়াজত ও সিয়াম সাধনার পর স্বপ্নে গাউসুল আজমের (রহ.) দর্শন লাভ করেন। স্বপ্নে নির্দেশ পান রোজা ভঙ্গ করে বাগদাদ শরীফে উপস্থিত হওয়ার। সেখানে তিনি গাউছুল আজমের দরবারে হাজির হয়ে তাঁর হাতে হাতে বায়আত গ্রহণ করেন এবং কাদেরিয়া তরিকার আনুষ্ঠানিক এজাজত লাভ করেন।

পরে গাউছুল আজমের নির্দেশে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি বঙ্গদেশে আগমন করেন। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলাম প্রচার, মানবকল্যাণ ও সমাজ সংস্কারে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তাঁর জীবন ছিল ত্যাগ, দান ও আধ্যাত্মিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

১৯২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর (৯ পৌষ ১৩২৮ বাংলা) কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়ায় তিনি ইন্তেকাল করেন। বর্তমানে তাঁর পবিত্র মাজার শরিফটি অবস্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে।

প্রতি বছর ৫ই ফাল্গুন এখানে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর পবিত্র উরস, যেখানে লাখো ভক্ত-অনুরাগীর সমাগম ঘটে। স্থানীয়ভাবে তাঁর বংশধরেরা আজও ইসলামের আদর্শ প্রচারে নিয়োজিত আছেন। ইসলামের সত্য ও শান্তির বার্তা ছড়ানো এই মহান সাধকের জীবন আজও পথহারা মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

আরও পড়ুন