কুষ্টিয়াকে লালন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে : সংস্কৃতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১:১৮, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়াকে লালন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে : সংস্কৃতিমন্ত্রী

দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং মনীষীদের স্মৃতি ধরে রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় লালনের স্মৃতি ও দর্শনকে ধারণ করে কুষ্টিয়াকে লালন নগরী বা পর্যটন ও শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় কালিগঙ্গা নদীর তীরে লালনের আখড়া বাড়িতে সাধু-বাউলের মিলনমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার থেকে ৩ দিনের উৎসব শুরু হয়েছে। চলবে আগামী সোমবার পর্যন্ত। 

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মূল ভাবনা হলো শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নতুনভাবে কাজ করা।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা সংষদ সদস্য অরিদা ইয়াসমিন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেমহেতী আহম্মেদ রুমী, পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

বাংলা ১২৯৭ সালের পহেলা কার্তিক (১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর) সাধক লালন সাঁই এই ছেউড়িয়াতেই দেহ ত্যাগ করেন। এরপর থেকে লালনের অনুসারীরা প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়িতে নানা আয়োজনের মধ্যে এদিনটি পালন করে আসছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় লালন একাডেমি তিন দিনের এই তিরোধান দিবসের আয়োজন করেছে।

এই উৎসবে যোগ দিতে দেশ-দেশের নানা প্রান্ত থেকে আখড়া বাড়িতে ছুটে এসেছেন লালন অনুসারী, সাধু-গুরু, বাউল ও ভক্তরা। ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা গেয়ে চলেছেন লালনের গান। 

লালন অনুসারীরা জানান, এই গানের মধ্যে দিয়ে ফকির লালন সাইয়ের বানী লক্ষ মানুষের মাঝে পৌছে দেবেন তারা। বর্তমানে লালনের আখড়া গুরু-শিষ্যের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

ছেউড়িয়ায় আসা লালনভক্ত সিরাজগঞ্জের বেলকুচির আনান বাউল বলেন, লালন সাইজী আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অধিকারী ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার মানুষ ছিলেন।

আমি তার এই বাণী নিজের মধ্যে ধারণ করতে এবং প্রচার করতে ১৯ বছর ধরে নিয়মিত এখানে আসি। 

বিদেশি অতিথি ফ্রান্সের দেবোরা জান্নাত বলেন, আত্মজ্ঞান আহরণের জন্য আমি এখানে এসেছি। নিজেকে জানার এখনো অনেক বাকি রয়েছে। তাই নিজেকে জানতে ও আত্মার আত্মীয়কে চিনতে সাইজীর ধামে আসি।

এদিকে দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসেছেন দোকানিরা। প্রতিবছরের মতো এবারও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন ভালো ব্যবসা হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ করে এবারের উৎসবে দর্শনাথীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ারসহ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান কালের কণ্ঠকে জানান, এবার বিশেষভাবে লালন তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। লালন অনুসারীরা মনে করেন, লালনের অহিংসার বাণী বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে পারলেই কেবল সার্থক হবে সব আয়োজন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন