পদত্যাগের খবরকে গুজব বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩:০৫, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পদত্যাগের খবরকে গুজব বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে এ খবরকে গুজব আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষ হওয়ার পর ইশরাককে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয় বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনগুলোতে জানানো হয়।

রোববার রাতে এ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি, এ বিষয়টিকে আমরা অবশ্যই গুজব হিসেবে ধরবেন। এর কোনো সত্যতা এখন পর্যন্ত নেই। এরকম যদি কোনো সিদ্ধান্ত আমরা দল থেকে নেই, তাহলে আপনাদের জানানো হবে।’

এর কিছুক্ষণ পর ‘গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ সংক্রান্ত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর খবরের প্রতিবাদ’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ কিংবা তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে প্রচারিত সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাস্তবে প্রতিমন্ত্রী তাঁর সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পদত্যাগের কোনো প্রশ্নও নেই। একটি পক্ষ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে।

শনিবার নিজ সংসদীয় এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির সময় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যে ঘটনা ঘটেছিল, সে বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী আগেই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে সংবাদ প্রচার করা বেআইনি এবং সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো যেন অবিলম্বে সংবাদ প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করে। তা না হলে অপপ্রচারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, রোববার রাত সোয়া ৮টার দিকেও নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। সেখানে তিনি বাঁশের লাঠি ব্যবহার করে মাদকের আস্তানা ধ্বংস করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা কয়েকটি গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাদকের সব আস্তানা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে।

ফেসবুক পোস্টে ইশরাক হোসেন আরও লেখেন, ‘কিছু নামকরা গণমাধ্যমের নামকরা আইনজীবী প্যানেল দিয়ে আইন এর ধারা স্পষ্ট করে ব‍্যাখ্যা নেওয়ার সামর্থ আছে এবং আমার বিশ্বাস তারা সে চর্চা করেও। সব জেনে শুনে বুঝেও তাদের খবরের ধরন দেখে মনে হচ্ছে ঘুন্টিঘরে মাদকের এক্সক্লুসিভ সাপ্লায়ার ছিল এরা। তাই আমার অভিযানের পর বন্য পশুর মতো আচরণ করছে। ওয়েট অ্যান্ড সি। সব মাদকের আখড়া (যারা হয়তো এই পেপারগুলোকে অর্থায়ন করে) সেগুলো মাটির সঙ্গে মেশানো হবে।’

নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বৈধ লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ছিল জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যে বৈধ লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিল। এখন থেকে এই আস্তানাগুলো বাসের লাঠি দিয়ে ধ্বংস করবো। পুলিশ দাঁড়ায় দাঁড়ায় দেখবে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে করে গ্রেফতার করে নিয়ে যাবে। মাদকবিরোধী সংগ্রামের ১৬ কলা পূর্ণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।’

এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এক হাতে হ্যান্ডমাইক এবং অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে কয়েকজনকে ধাওয়া করছেন তিনি। একপর্যায়ে পিস্তলের স্লাইড টেনে অস্ত্র তাক করে তাঁদের দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেই এভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের সুযোগ আছে কি না এবং একজন জনপ্রতিনিধি নিজে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

রোববার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ডিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটে থাকলে পুলিশ আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তাঁর বিবৃতিতে দাবি করেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা সাময়িকভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় থানা-পুলিশের সহযোগিতায় চার-পাঁচটি মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন