নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:১৯, ২০ অক্টোবর ২০২৬
রোববার (১৮ অক্টোবর) পাঠানো ওই নথির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে পৃথক অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট নজরুলকে আটক করা হয়। পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক হন সুইটি আক্তার।
নথি অনুযায়ী, নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দার নারী কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁরা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
কনস্যুলেটের হাতে আসা ৩০ সেপ্টেম্বরের বন্দিদের তালিকায় মোট ৯৭ জনের অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ ছিল। তবে নজরুল ও সুইটি আক্তারের ক্ষেত্রে অপরাধের বিবরণসংক্রান্ত ঘরটি ফাঁকা ছিল। ওই তালিকায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের সাজার কথাও উল্লেখ করা হয়নি।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের নজির সম্পর্কে কনস্যুলেটের কাছে তথ্য নেই।
এদিকে, নথির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। সাইবার অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের তথ্যও নথিতে রয়েছে।
কনস্যুলেট জানিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বা তা কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা জেদ্দার কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এ ঘটনায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে কনস্যুলেট। এতে আদালতের রায়ের অনুলিপি ও বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট।