প্রকাশ: ১৭:১৩, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৭:১৪, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান রাজধানীর ৩০০ ফিটে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ওঠেন। বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। শুরুতেই বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ।’
তারপর দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রথমেই রাব্বুল আলামিনের প্রতি শোকরিয়া আদায় করছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি।
তিনি বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল।
বিএনপি এক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো আমরা, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু- যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ইনশাআল্লাহ ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে।’
তারেক রহমান বলেন, আমরা শান্তি চাই। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। কারো উস্কানিতে পা দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, '৭১ এ দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে যেমন সর্বস্তরের মানুষ, সবাই মিলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল, সেভাবেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে দেশে নারী, পুরুষ, শিশু সবাই যেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে পারে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরে ঐতিহাসিক ভাষণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যেসব জাতীয় নেতারা এ মঞ্চে আছেন; যারা মঞ্চের বাইরে আছেন; আমরা সবাই মিলে এ দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেকোনো মূল্যে আমাদের এ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোনো উসকানির মুখে আমাদের ধীর ও শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই; আমরা দেশে শান্তি চাই; আমরা দেশে শান্তি চাই।
তিনি আরও বলেন, আমার একটি পরিকল্পনা আছে, দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। ইনশাআল্লাহ আমরা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।
এর আগে ১৭ বছর পরে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের দেওয়া সংবর্ধনা শেষে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার আগে তারেক রহমান জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে একমুঠো মাটি নেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে বিমানবন্দরে বরণ করে নেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বিমানবন্দর থেকে লাল সবুজ রঙের বিশেষ বাসে তারেক রহমান পূর্বাচলের গণসংবর্ধনাস্থলে যান।
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিমানবন্দর এলাকা ও আশপাশে সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকেন দলটির নেতাকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে ছিল।
তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও সক্রিয় হবে এবং আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানকালে দলীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, সরাসরি মাঠের রাজনীতিতে তাঁর অনুপস্থিতি বিএনপির জন্য একটি বড় বাস্তবতা ছিল। আজকের এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ হলো বলে মনে করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির গতিপথেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে তাঁর উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে।