মামুন অর রশিদ বিজন, মেহেরপুর
প্রকাশ: ১৬:২০, ১ মার্চ ২০২৬
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অগ্রযাত্রা প্রতিদিনে “মেহেরপুরে নতুন করে শনাক্ত রেড পাম উইভিল, ঝুঁকিতে চিৎলা ফার্মের তালগাছ” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস।
এ বিষয়ে অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি মামুন অর রশিদ বিজন গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনি প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন ফিল্ড সুপারভাইজারকে পরিদর্শনে পাঠানোর কথা জানান। পরে সংবাদ প্রকাশের দু’দিন পর, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শন শেষে গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিয়র রহমান জানান, রেড পাম উইভিলের আক্রমণে ইতোমধ্যে গাছগুলোর ক্ষতি হয়েছে। এ পোকা সাধারণত গাছের কাণ্ডের ফাটল বা ক্ষতস্থানে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বের হওয়া লার্ভা কাণ্ডের ভেতরে প্রবেশ করে নরম অংশ খেতে থাকে। ফলে গাছ ভেতর থেকে ফাঁপা হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে হঠাৎ ভেঙে পড়ে বা শুকিয়ে মারা যায়। প্রাথমিক অবস্থায় বাইরে থেকে আক্রান্ত গাছ শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আক্রান্ত গাছে ক্লোরপাইরিফস বা ইমিডাক্লোরোপ্রিড প্রয়োগ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত স্থানে পোকা বের করে ফেলে ছত্রাকের সংক্রমণ রোধে কপার পেস্ট ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পেট্রোল জাতীয় তেল স্প্রে করলে পোকার আক্রমণ কমতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উদ্যোক্তা ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন জানান, ২০১৮ সাল থেকে সামাজিক বনায়নের আওতায় চিৎলাসহ গাংনী উপজেলাজুড়ে ৩ লক্ষাধিক তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স ৪ থেকে ৭ বছর। গাছের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হলেও মেহেরপুর লাইভ ও অগ্রযাত্রা প্রতিদিনে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কৃষি বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেছে।