ছুটির দিনে অফিসে ডেকে ধর্ষণ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর

প্রকাশ: ১৫:১১, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ছুটির দিনে অফিসে ডেকে ধর্ষণ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সফিউল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গল্প করার নামে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সফিউল ইসলামকে (৩৯) আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে তাকে দিনাজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বর থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক ডা. সফিউল ইসলাম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার জারুল্যা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি বর্তমানে হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ভুক্তভোগী নারী থানায় করা লিখিত অভিযোগে জানান, তার স্বামী অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার সূত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজের সরকারি কোয়ার্টারে ভুক্তভোগীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তাকে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য চাপ দেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি স্বামীকে তালাক দেন।

পরবর্তীতে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন এবং একই দিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে তালাক দিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাকিমপুর থেকে বিরামপুর যাওয়ার পথে পৌরসভার চারমাথা মোড়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ফোন করে তাকে ছুটির দিনে অফিসে আসতে বলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি অফিসে গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে কক্ষে নিয়ে যান এবং পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও যৌন ভিডিও সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন