মোঃ রাকিব হাসান, পঞ্চগড়
প্রকাশ: ১৯:১৬, ১২ আগস্ট ২০২৬
গত ৯ আগস্ট সাইদুজ্জামান রেজা নামের এক রোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লাইসেন্স না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সাইদুজ্জামান রেজা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে SGPT (ALT) পরীক্ষা করান। একই পরীক্ষা অন্যত্র করানোর পর রিপোর্টে ব্যাপক গরমিল পাওয়ায় গত ১১ আগস্ট পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট সকালে মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের স্মারক নং-সিএ-স/পঞ্চ/প্রশা/২০২৬/৯৪৫, তারিখ ১২ আগস্ট ২০২৬-এ বলা হয়, লাইসেন্স না থাকায় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করার নির্দেশের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলো।
নোটিশ জারির পর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের সামনে কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ১০ আগস্ট লিভার রোগে আক্রান্ত রোগী সাইদুজ্জামান রেজা পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে লিভারের পরীক্ষা করান। সেখানে তার SGPT পরীক্ষায় ১২৭ U/L পাওয়া যায়। তার লিভারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে আবারও SGPT পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ওই দিনই সাইদুজ্জামান রেজা (৪৪) মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে SGPT পরীক্ষার জন্য রক্ত দেন। সেখানে তার SGPT রিপোর্টে মাত্র ২৬.৭ U/L পাওয়া যায়।
দুই প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে ব্যবধান অনেক বেশি হওয়ায় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ হয় সাইদুজ্জামান রেজার। পরে লিভারের সঠিক অবস্থা জানতে তিনি আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরদিন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয়বারের মতো SGPT পরীক্ষা করান তিনি। সেখানে তার SGPT পরীক্ষার রিপোর্টে ১২১ U/L পাওয়া যায়।
একই পরীক্ষায় তিনটি রিপোর্টে বড় ধরনের পার্থক্য পাওয়ার পর তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে গত ১১ আগস্ট সকালে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন বরাবর মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন সাইদুজ্জামান রেজা।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে তাদের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকায় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র ঠিক না করা পর্যন্ত তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি পরিচালনা করতে পারবেন না।