চিংনু মং মারমা, বান্দরবান
প্রকাশ: ২০:০৬, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তরুণদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মেঘলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ১৯ জন তরুণের হাতে সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ও ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহাতাব উদ্দিন পাটোয়ারী।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৬ সেপ্টেম্বর এ প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হয়। বান্দরবান সেনা রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায়, বান্দরবান সদর জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মেঘলার পরিচালনায় কোর্সটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ চলাকালে তরুণদের ফ্রিজ ও এসির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সম্পর্কে ধারণা, ত্রুটি শনাক্তকরণ, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্ভিসিংয়ের বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নয়, বাস্তব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতাও অর্জন করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে এসব তরুণ স্থানীয়ভাবে ফ্রিজ ও এসি মেরামতের সার্ভিস দিতে পারবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, সার্ভিস সেন্টার ও প্রতিষ্ঠানে কারিগরি কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ নিতে পারবেন। কেউ চাইলে অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেই ছোট পরিসরে সার্ভিসিং ব্যবসা শুরু করে আত্মকর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, শুধু চাকরির ওপর নির্ভর না করে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ তরুণদের বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।
আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে দক্ষ কারিগরি জনবলের চাহিদা রয়েছে। ফ্রিজ ও এসির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব যন্ত্রের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনও বাড়ছে। ফলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরা স্থানীয় পর্যায়ে এ সেবা দেয়ার মাধ্যমে আয় করার সুযোগ পাবেন।
সনদপত্র হাতে নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করা এবং নিজের ও পরিবারের জন্য আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।