মোঃআহছান উল্লাহ,কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৯:২৮, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গত ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে গভীর মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা জুড়ে এই সাঁড়াশি অভিযান চলে। কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের সরাসরি নির্দেশনা এবং সশরীরে অংশগ্রহণে এই ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এরই প্রেক্ষিতে জেলা পুলিশের সকল ইউনিট এবং ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক সুসংগঠিত টিম গঠন করে একযোগে মাঠে নামা হয়। বিশেষ করে শহরের বিভিন্ন মোড়, অন্ধকার বা নির্জন স্থান, পার্ক, খেলার মাঠ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ এবং যেসব এলাকায় বখাটেদের নিয়মিত জমায়েত বা আড্ডা বসে, সেসব স্পটগুলোকে চিহ্নিত করে 'ব্লক রেইড' দেওয়া হয়। অভিযানে পুলিশ সুপার ছাড়াও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি মাঠে থেকে বিভিন্ন টিমের নেতৃত্ব দেন।
অভিযান শেষে আটককৃতদের বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ঢালাওভাবে কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। বর্তমানে আটককৃত ৩৭৯ জনের পূর্ববর্তী রেকর্ড, স্থানীয়ভাবে তাদের কর্মকাণ্ড এবং কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—তা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক যাচাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, অভিযানে কোনো নিরপরাধ সাধারণ কিশোর, শিক্ষার্থী বা ব্যক্তি যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা আইনি জটিলতার শিকার না হন, সে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোরভাবে মনিটরিং করছে। অপরাধহীনদের যাচাই-বাছাই শেষে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণরা যাতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক চক্র, মাদক বা গ্যাং সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস না করে, সেই লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সন্তানদের চলাফেরা ও আড্ডার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
কিশোর অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত জেলা পুলিশের এই বিশেষ অভিযান, টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি আগামী দিনগুলোতেও সমভাবে অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।